সন্দ্বীপের কয়েকটি ঘাটে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইলিশ শিকারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর স্থানীয় পর্যায়ে অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট শিকারের দলকে গ্রেফতার করার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কোনো সন্দেহভাজনকে ধরতে ব্যর্থ হয়। এই ঘটনা দেশের ইলিশ সংরক্ষণ নীতির প্রতি জনসাধারণের উদ্বেগকে তীব্র করে তুলেছে এবং মৎস্য বিভাগকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করেছে।
ইলিশের শিকারের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মূলত অতিরিক্ত শিকারের ফলে প্রজাতির হ্রাস রোধের জন্য গৃহীত। পূর্বে বহুবার মৎস্য বিভাগ ও পরিবেশ সংস্থা একত্রে কঠোর নজরদারি চালিয়েছে, তবে ঘন ঘন লঙ্ঘনের ফলে নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্দ্বীপের ঘাটগুলো ঐতিহ্যবাহী ইলিশ শিকারের কেন্দ্র, যেখানে স্থানীয় অর্থনীতি ও জীবিকা নির্ভরশীল, ফলে নিষেধাজ্ঞা ও বাস্তব শিকারের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা যায়।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও গ্রামসভা নেতারা উল্লেখ করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইলিশের চাহিদা অব্যাহত থাকায় অনিয়মিত শিকারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। মৎস্য বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন যে, অভিযানের সময় কোনো সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে সন্দেহভাজনদের উপর নজরদারি বাড়ানো হবে। পরিবেশ সংস্থার প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলছেন যে, সরকারকে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে বিকল্প আয় উৎস ও প্রশিক্ষণ প্রদান করতে হবে, যাতে শিকারের উপর নির্ভরতা কমে।
অধিদপ্তর এখন থেকে সন্দ্বীপের ঘাটে অতিরিক্ত নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং লঙ্ঘনকারীকে কঠোর শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। ভবিষ্যতে ড্রোন ও স্যাটেলাইট চিত্রের মাধ্যমে রিয়েল‑টাইম পর্যবেক্ষণ করা হবে, পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জন্য টেকসই চাষাবাদ ও বিকল্প আয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইলিশ সংরক্ষণ নীতি কার্যকর করা এবং মৎস্যজীবীর জীবিকা রক্ষা করা একসাথে সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।