সাড়ে তিন ঘন্টা পর গাজীপুরের একটি শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত দুটি কারখানার গুদামে আগুন লাগার পর দ্রুত দমকল বাহিনী আগুন নিবারণ করে। ২৪শে অক্টোবর সন্ধ্যায় ৬.৩০টার দিকে প্রথম গুদামে তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আগুন লেগে যায়, এরপর দ্বিতীয় গুদামেও ছড়িয়ে পড়ে। ২ জন কর্মচারী সামান্য পোড়া আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, তবে কোনো প্রাণহানি হয়নি। আগুনের ফলে গুদামের মোট ১.২ মিলিয়ন টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ৪০ টিরও বেশি পণ্য ধ্বংস হয়েছে।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে আগের কয়েক বছরে অনুরূপ দুর্ঘটনা ঘটেছে, বিশেষত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ও রসায়নিক পণ্যের অনুপযুক্ত সংরক্ষণের কারণে। স্থানীয় বাণিজ্য সমিতি জানিয়েছে যে, এই কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মানদণ্ডে ঘাটতি ছিল এবং নিয়মিত পরিদর্শন করা হয়নি। গুদামগুলোর দেয়াল ও ছাদে পুরনো বৈদ্যুতিক তারের ব্যবহার, এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অনুপস্থিতি আগুনের দ্রুত বিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছে।
দমকল বিভাগের প্রধান শ্রীমতি রুবাইয়া আহমেদ জানান, “আগুনের প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত হস্তক্ষেপের ফলে প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হয়েছে। আমরা ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করব।” গাজীপুরের মেয়র শ্রীমতি সুমন দাশও বলেন, “এই ধরনের ঘটনা আমাদের শিল্প নীতি ও নিরাপত্তা বিধি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা প্রকাশ করে। আমরা সংশ্লিষ্ট সকল কারখানাকে নিরাপত্তা মানদণ্ড মেনে চলার নির্দেশ দেব।” কর্মচারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এবং তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবী করেন।
প্রশাসন এখন একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করেছে যা আগুনের কারণ ও কারখানাগুলোর নিরাপত্তা মানদণ্ডের অনুপালন পরীক্ষা করবে। পাশাপাশি, গাজীপুরে নতুন অগ্নি নিরাপত্তা বিধি প্রণয়ন ও বিদ্যমান কারখানাগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপনের নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে নিয়মিত অগ্নি মহড়া ও নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করে শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।