সরকারি আইনসভার বিশেষ কমিটি গত সপ্তাহে প্রস্তাবিত সংশোধনী পত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, বেনামে কোনো কোম্পানির শেয়ার বা সম্পত্তি ধারণ করা অবৈধ হবে। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল শেয়ারহোল্ডারদের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর ফাঁকি, অর্থ পাচার ও দুর্নীতির সুযোগ কমানো। সংশোধনীর অনুমোদনের সঙ্গে সঙ্গে দেশের ব্যবসা‑বাণিজ্যিক পরিবেশে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত আইনটি ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনকে ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে, তবে অতীতের বহু মামলায় দেখা গেছে যে, বেনাম শেয়ারহোল্ডাররা প্রায়শই কর ফাঁকি ও অবৈধ লেনদেনের পেছনে লুকিয়ে থাকেন। পূর্বে শেয়ারহোল্ডারদের নাম প্রকাশের বাধ্যবাধকতা শুধুমাত্র পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে আরোপিত ছিল, আর প্রাইভেট সেক্টরে এই বিধান অনুপস্থিত থাকায় ব্যবসায়িক গোপনীয়তা ও স্বার্থের সংঘাত বৃদ্ধি পেয়েছিল। এই ঘাটতি দূর করতে নতুন সংশোধনীতে সকল কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের নাম রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

আইন প্রণয়ন কমিটির প্রধান সদস্য, অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপ-মাননীয় শফিকুল ইসলাম বলেন, “শেয়ারহোল্ডারদের স্বচ্ছতা না থাকলে আর্থিক বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা কঠিন। এই আইন দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে সুদৃঢ় করবে।” ব্যবসা সমিতির সভাপতি রশিদুল ইসলাম এ বিষয়ে আশাবাদী, তবে তিনি অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় ও রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জটিলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানানো হয়েছে, কারণ এটি কর ফাঁকি ও অর্থ পাচারের ঝুঁকি কমিয়ে সামাজিক ন্যায়বিচারকে শক্তিশালী করবে।

সরকার ইতিমধ্যে সংশোধনীকে আইনসভার সামনে উপস্থাপন করেছে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে ভোটের মাধ্যমে অনুমোদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। অনুমোদনের পর, সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে শেয়ারহোল্ডার রেজিস্ট্রার আপডেটের জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন আইন কার্যকর হওয়ার পরের ছয় মাসের মধ্যে সকল কোম্পানিকে রেজিস্ট্রার আপডেট করতে হবে এবং লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে শাস্তি আরোপের ব্যবস্থা করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের ব্যবসা‑বাণিজ্যিক পরিবেশে স্বচ্ছতা, দায়িত্বশীলতা এবং আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করার লক্ষ্য স্পষ্ট।