১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে লেট রোড ব্যান্ডের কনসার্টের পর আইয়ুব বাচ্চু এবং তার সঙ্গীরা শহরের একটি বৃহৎ শপিং মলে গিটার বিক্রির দোকানে প্রবেশ করেন। সেখানে গিটার প্রদর্শনী চলছিল, এবং এক দোকানির হঠাৎ করে বাংলাদেশের প্রতি তাচ্ছিল্যপূর্ণ মন্তব্য করে, ‘বাংলাদেশের গিটার কি কোনো মানের হবে?’ বলে হেসে ওঠে। এই মন্তব্যের মুখে আইয়ুব বাচ্চু তৎক্ষণাৎ রাগ না করে, বরং শালীনভাবে দোকানির কাছে গিটারের গুণগত মান ও বাংলাদেশের সঙ্গীত সংস্কৃতির সমৃদ্ধি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেন, এবং নিজ হাতে নতুন ব্র্যান্ডের গিটারটি পরীক্ষা করে তার উৎকর্ষতা প্রমাণ করেন।
সেই সময়ে লেট রোড ব্যান্ড আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার সুরের মাধ্যমে বাংলাদেশকে গর্বিত করছিল, এবং আইয়ুব বাচ্চু তার গিটার বাজানোর দক্ষতা ও সৃষ্টিশীলতা দিয়ে বিদেশি ভক্তদের মুগ্ধ করছিল। তবে, বিদেশে বাংলাদেশকে প্রায়ই অল্প পরিচিতি ও ভুল ধারণার শিকার হতে দেখা যায়। এই ঘটনার পটভূমিতে ছিল দেশের সঙ্গীত শিল্পের আন্তর্জাতিক প্রচারের অভাব, এবং বিদেশি বাজারে বাংলাদেশের পণ্য ও সংস্কৃতির যথাযথ উপস্থাপনের জন্য যথেষ্ট পরিকল্পনা না থাকা। আইয়ুবের গিটারের প্রতি গভীর আকর্ষণ ও গুণগত মানের প্রতি তার উচ্চ প্রত্যাশা, এই তাচ্ছিল্যকে প্রতিক্রিয়ার মূল ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়।
আইয়ুব বাচ্চু ঘটনাস্থলে বলেন, ‘গিটার যাই হোক, সুরের মানই গুরুত্বপূর্ণ; আমাদের সঙ্গীতের গুণমানই আমাদের পরিচয়।’ তার এই বক্তব্যটি সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, এবং দেশের সঙ্গীতপ্রেমী ও তরুণ শিল্পীদের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন পায়। লেট রোডের অন্যান্য সদস্যও আইয়ুবের এই শান্তিপূর্ণ ও আত্মবিশ্বাসী প্রতিক্রিয়াকে প্রশংসা করেন, এবং বিদেশে বাংলাদেশের সঙ্গীতের মর্যাদা বাড়াতে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার বলে উল্লেখ করেন। সাধারণ জনগণও আইয়ুবের এই আচরণকে গর্বের বিষয় হিসেবে গ্রহণ করে, এবং সামাজিক মাধ্যমের মন্তব্যে ‘বাংলাদেশের গর্ব’ ও ‘সাংস্কৃতিক রক্ষক’ শব্দগুলো প্রায়ই দেখা যায়।
এই ঘটনার পর বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। মন্ত্রণালয় গিটার ও সঙ্গীত যন্ত্রের মান উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। পাশাপাশি, বিদেশে বাংলাদেশের সঙ্গীত ও শিল্পকলা প্রচারের জন্য বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত দল গঠন করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে এধরনের তাচ্ছিল্যমূলক মন্তব্যের মুখে দেশের গর্বিত সুরকে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা যায়। আইয়ুব বাচ্চুর এই উদাহরণমূলক প্রতিক্রিয়া দেশের সাংস্কৃতিক নীতি গঠনে একটি মডেল হিসেবে বিবেচিত হবে, এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের সঙ্গীতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য নীতি নির্ধারণে প্রেরণা দেবে।