গত মাসে দেশের বিভিন্ন পর্যটন রিসোর্টে একাধিক অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, যার ফলে প্রাণহানি ও সম্পত্তি ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা, সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের জনপ্রিয় রিসোর্টে আগুনের তীব্রতা ও বিস্তার দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসার ফলে বহু অতিথি ও কর্মী নিরাপদে বের হতে পারেনি। সরকারী সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপ করে অগ্নি নির্বাপণ কাজ চালু করলেও, আগুনের মূল কারণ ও দায়িত্ব নির্ধারণে এখনো স্পষ্টতা নেই। এই ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড দেশের পর্যটন শিল্পের সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং পর্যটক সুরক্ষার প্রশ্ন উত্থাপন করে।
রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব ও অযথা কাঠামোগত ত্রুটি প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বেশিরভাগ রিসোর্টে অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম পুরনো, রক্ষণাবেক্ষণ অনিয়মিত এবং জরুরি প্রস্থান পথের চিহ্ন স্পষ্ট না হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে গতি কমে যায়। অতিরিক্তভাবে, কিছু রিসোর্টে বৈদ্যুতিক সংযোগের অতিরিক্ত লোড, গ্যাস লিকেজ এবং অপ্রতুল নিরাপত্তা প্রশিক্ষণকে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হয়েছে। পূর্বে ২০১৯ ও ২০২১ সালে সমান ধরণের ঘটনা ঘটলেও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথাযথভাবে কার্যকর করা হয়নি, ফলে একই ধরণের ত্রুটি পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
অগ্নি নির্বাপক দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “প্রতিটি রিসোর্টে অগ্নি নিরাপত্তা মানদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ অনুসরণ না করা হলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে।” রিসোর্টের মালিকরা দাবি করছেন যে তারা সরকারী অনুমোদন ও তত্ত্বাবধানে কাজ করে এবং অগ্নি নিরাপত্তা সরঞ্জাম আপডেটের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদে অংশগ্রহণ করেছে। সামাজিক মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে রিসোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে এবং অনেকেই পর্যটন শিল্পে স্বচ্ছতা ও কঠোর তদারকি দাবি করছেন।
পর্যটন মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সরকার এখন জরুরি তদন্ত কমিটি গঠন করে অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ নির্ণয় ও দায়ী পক্ষকে আইনি দায়িত্ব আরোপের কাজ শুরু করেছে। তদুপরি, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সব রিসোর্টে অগ্নি নিরাপত্তা অডিট চালু করা, আধুনিক অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা স্থাপন এবং জরুরি প্রস্থান পথের স্পষ্ট চিহ্ন নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারী বাজেট থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করে ক্ষতিগ্রস্ত রিসোর্টের পুনর্নির্মাণ ও কর্মী প্রশিক্ষণেও অগ্রাধিকার দেবে। এই পদক্ষেপগুলো রিসোর্টে পুনরায় পর্যটক আস্থা অর্জন এবং দেশের পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।