লন্ডনের উত্তর‑পশ্চিমে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই বিমানগুলোকে তৎক্ষণাৎ উড্ডয়ন করে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এই পদক্ষেপটি ইরানের সাম্প্রতিক হুমকির প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়। বিমানগুলোকে সরিয়ে নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিভাগে বিশ্লেষণমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়, যাতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়।

বিমানবন্দরে বি-১ বোমারু বিমানগুলোর উপস্থিতি মূলত ইরানের পারমাণবিক ও রকেট প্রকল্পের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে ছিল। ২০২২ সালের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী এই বিমানগুলোকে ইউরোপের কৌশলগত স্থানে স্থাপন করে, যাতে ইরানের সম্ভাব্য আক্রমণকে প্রতিহত করা যায়। তবে, ইরান‑যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক সুবিধায় সম্ভাব্য আক্রমণ পরিকল্পনা, এই বিমানগুলোর ব্যবহারকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। অতএব, যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই বিমানগুলোকে অস্থায়ীভাবে সরিয়ে নেওয়া নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে যুক্তিযুক্ত বলে বিবেচনা করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের মতে, বি-১ বোমারু বিমানগুলোকে “অস্থায়ীভাবে পুনর্বিন্যাস” করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আবার মোতায়েন করা হতে পারে, তবে তা ইরান‑যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সংলাপের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটি এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখার আহ্বান জানায়। ইরান সরকার এই ঘটনার প্রতি তীব্র বিরোধিতা প্রকাশ করে, দাবি করে যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকি দেয়। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু মানুষ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্বস্তি পায়, আবার অন্যরা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হস্তক্ষেপকে সমালোচনা করে।

কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা বিভাগ ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রত্যাশিত সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি কমানো যায়। একই সঙ্গে, কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করে ইরানের সঙ্গে সংলাপের পথ খোঁজা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সরকার এই বিষয়ে পার্লামেন্টে বিশদ প্রতিবেদন উপস্থাপন করবে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বাড়াবে। শেষ পর্যন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি করতে সহায়ক হবে।