মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হরমুজ প্রণালিতে আরোপিত অবরোধের কঠোর শর্তের পরেও ইরান ও ওমানের মধ্যে যৌথ নৌপথ চালুর চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং সংস্থা ও বাণিজ্যিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে এই উদ্যোগটি অঞ্চলগত বাণিজ্যিক রুটের বিকল্প সরবরাহের পাশাপাশি জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। সমুদ্রপথের পুনর্গঠনকে কেন্দ্র করে আজকের বৈঠকে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা একমত হন যে, হরমুজের বাণিজ্যিক ব্যবহারকে অবরোধের প্রভাব থেকে রক্ষা করা জরুরি। এই চুক্তি হরমুজের জাহাজ চলাচলের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধের পটভূমি কয়েক বছর পূর্বের পারমাণবিক চুক্তি ভঙ্গের পর থেকে গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল ইরানের তেল রপ্তানি ও আর্থিক লেনদেনকে সীমাবদ্ধ করা, যার ফলে হরমুজের মাধ্যমে গমন করা জাহাজগুলোকে কঠোর পরিদর্শন ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার মুখে রাখা হয়। এই অবরোধের ফলে গ্লোবাল তেল বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক রুটে বিকল্প পথের প্রয়োজনীয়তা তীব্র হয়। পূর্বে ওমান ও যুক্তরাজ্যের সমন্বয়ে কিছু সীমিত রুট চালু করা হলেও, ইরানের সরাসরি অংশগ্রহণের অভাবের কারণে তা দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পেজেশকিয়ান বৈঠকে উল্লেখ করেন, “সোমবার মাসকটে অনুষ্ঠিত আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে যৌথ নৌপথ চালুর চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে, যা আমাদের জাতির বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য অপরিহার্য।” ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীও একইভাবে ইরানের সঙ্গে সমন্বয়কে “অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ” বলে প্রশংসা করেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস এই উদ্যোগকে “অবৈধ” ও “আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার লঙ্ঘন” বলে সমালোচনা করে, এবং হরমুজে অতিরিক্ত নজরদারি বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত দেয়। গালফের প্রতিবেশী দেশগুলো, বিশেষ করে কাতার ও যুক্ত আরব আমিরাত, এই নৌপথকে “বাণিজ্যিক স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা” বৃদ্ধির একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানায়।

অধিকাংশ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন হরমুজে নতুন নৌপথের কার্যকরী পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে। ইরান ও ওমান উভয়ই সমন্বিত নেভিগেশন সিস্টেম স্থাপন, জাহাজ ট্র্যাকিং ও জরুরি সেবা প্রদানকে দ্রুততর করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এই রুটের মাধ্যমে তেল ও গ্যাসের রপ্তানি বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা অঞ্চলের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ নীতি পুনর্মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সমন্বয় করা প্রয়োজন, যাতে হরমুজের বাণিজ্যিক ব্যবহার বৈধ ও নিরাপদ পরিবেশে পরিচালিত হতে পারে।