ইয়েমেনের সরকারি বার্তা সংস্থা সাবা আজ জানিয়েছে যে, লোহিত সাগর উপকূলবর্তী মোখা শহরের কাছে ইরান‑সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর একাধিক যানবাহন ও অস্ত্রাগার লক্ষ্য করে সরকারী বিমানবাহিনীর সমন্বিত আকাশীয় হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলায় হুতিদের বেশ কিছু গাড়ি, ট্যাঙ্ক এবং রকেট লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে এবং গোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই পদক্ষেপটি হুতিদের সমুদ্রপথে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহ ও বাণিজ্য বন্ধ করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ।

হুতি গোষ্ঠী ২০১৪ সালে ইরানের সমর্থনে ইয়েমেনের উত্তরে শক্তি সংগ্রহ করে এবং দ্রুতই লোহিত সাগরের কৌশলগত বন্দর মোখা দখল করে। এরপর থেকে গোষ্ঠীটি সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজে রকেট ও মাইন ব্যবহার করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করে আসছে। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে গঠিত জোট বাহিনীর সামরিক হস্তক্ষেপের পর থেকে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ তীব্রতর হয়েছে, এবং হুতিরা ও সরকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বহুবার বর্ধিত হয়েছে। মোখা বন্দর দেশের প্রধান রপ্তানি‑আমদানি কেন্দ্র হওয়ায় এর ওপর নিয়ন্ত্রণের জন্য উভয় পক্ষই কৌশলগত গুরুত্ব আরোপ করে আসছে।

হামলার পর ইয়েমেনের প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল বিবৃতি প্রকাশিত হয়, যেখানে তিনি বলছেন, “হুতিদের অবৈধ সামরিক কার্যকলাপ রোধে এই আকাশীয় অভিযান অপরিহার্য এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য গৃহীত কঠোর পদক্ষেপ।” অন্যদিকে হুতি গোষ্ঠীর মুখপাত্র একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে গোষ্ঠীর সদস্যরা হামলায় নিহতদের সংখ্যা ১১ জন বলে দাবি করে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে “অবৈধ হস্তক্ষেপের বিরোধিতা” করার আহ্বান জানায়। স্থানীয় বাসিন্দারা বন্দর এলাকায় সাময়িকভাবে চলাচল সীমাবদ্ধ হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যাঘাতের মুখে পড়েছে; তবে কিছু ব্যবসায়ী জানান, সাময়িক বন্ধের পরেও বাণিজ্য পুনরায় চালু হলে অর্থনৈতিক ক্ষতি কমে যাবে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা গুলি-গোলাবার ফলে বেসামরিক প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ার কথা উল্লেখ করে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।

অধিকন্তু, ইয়েমেনের সরকারী বাহিনী হুতিদের সমুদ্রপথে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করার জন্য নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে এবং আন্তর্জাতিক নৌবাহিনীর সমর্থন চেয়ে নিয়মিত সমুদ্র পর্যবেক্ষণ চালু করেছে। ভবিষ্যতে হুতিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা তৈরি করতে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী সংস্থাগুলোর ভূমিকা বাড়ানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে, মানবিক সহায়তার প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংযুক্ত জাতিসংঘ ও অন্যান্য দাতা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হবে, যাতে যুদ্ধের ফলে বঞ্চিত জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করা যায়। এই পদক্ষেপগুলোকে সমন্বিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হলে লোহিত সাগরের নিরাপত্তা ও ইয়েমেনের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।