কিয়েভে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সফরের পরপরই রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী শহরের গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ড্রোনের মাধ্যমে নির্ভুল হামলা চালায়। রাতের অন্ধকারে সাইরেনের গর্জন শোনার সঙ্গে সঙ্গে বাসিন্দারা জরুরি সতর্কতা পায় এবং নিরাপদ আশ্রয়ে সরতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেতুটি দেশের প্রধান পরিবহন জালের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যার ধ্বংসের ফলে শহরের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংযোগে গুরুতর ব্যাঘাত ঘটবে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন। এই আক্রমণটি চ্যান্সেলরের ভিজিটের ঠিক পরেই ঘটায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে।

রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের সূচনালগ্ন থেকে কিয়েভের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়ে আসছে, বিশেষত কৌশলগত সেতু ও সেতু সংযোগস্থলগুলোকে ধারাবাহিকভাবে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। গত কয়েক মাসে একই রকম ড্রোন হামলা এবং রকেট আঘাতের মাধ্যমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে ও সেতু নষ্ট করা হয়েছে, যা দেশের লজিস্টিক্সে বিশাল প্রভাব ফেলেছে। ফ্রিডরিখ মের্ৎসের ভিজিটের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইউক্রেনের পুনর্গঠন ও ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্বিন্যাসে জার্মান সমর্থন নিশ্চিত করা, তবে এই আক্রমণটি শত্রু পক্ষের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে যে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সামরিক চাপে কোনো অবকাশ নেই। আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, এই ধরনের সমন্বিত আক্রমণ কিয়েভের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি পরীক্ষা করার পাশাপাশি জার্মান-ইউক্রেন সম্পর্কের উপর চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য বহন করে।

উক্রেনের রাষ্ট্রপতি অফিসের মুখপাত্র হোমি গোরবাচের মতে, এই হামলা “অবৈধ ও নিষ্ঠুর” এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে। জার্মান দূতাবাসের প্রেসিডেন্টও মের্ৎসের সফরের পর এই ঘটনার জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, এবং জার্মান সরকারকে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সহায়তা বৃদ্ধি করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কে ভুগছেন; অনেকেই সেতুর ধ্বংসের ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন এবং জরুরি আশ্রয়ে শরণ নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করছেন। মানবিক সংস্থা গুলো দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী সরবরাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, তবে নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়ায় কাজের গতি ধীরগতিতে চলছে।

উক্রেনের নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় তৎক্ষণাৎ সেতুর ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করার জন্য জরুরি টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং বিকল্প রুটের মাধ্যমে জরুরি সেবা চালু করার নির্দেশ দিয়েছে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলো এই ঘটনার পরপরই কিয়েভে সামরিক পরামর্শদাতা ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম পাঠানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়ার এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে জরুরি আলোচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। ভবিষ্যতে সেতুর পুনর্নির্মাণ ও অবকাঠামো পুনরুদ্ধারের জন্য আন্তর্জাতিক আর্থিক সহায়তা ও প্রযুক্তিগত সমর্থন নিশ্চিত করা হবে, যাতে কিয়েভের নগর পরিবহন ব্যবস্থা দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং নাগরিকদের জীবনযাত্রা পুনরুদ্ধার হয়।