গতকাল সন্ধ্যায় ইসরায়েল গন্তব্যে উড়ে যাচ্ছিল একটি বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে ভারতীয় সহকারী পাইলটের ওপর ছুরিকাতের ঘটনা ঘটেছে। উড়োজাহাজটি আন্তর্জাতিক বায়ু পথে ফ্লাইট ৩৪২ নম্বর হিসেবে পরিচিত ছিল এবং হেলসিঙ্কি থেকে তেল আবিব পর্যন্ত পথে ছিল। উড়োজাহাজের কেবিনে হঠাৎ অশান্তি দেখা দেয়; এক অজানা ব্যক্তি ছুরি বের করে পাইলটের গলায় আঘাত করে। তৎক্ষণাত্ সহকারী পাইলটকে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয় এবং তিনি নিকটস্থ হাসপাতালের তীব্র সেবা বিভাগে ভর্তি হন। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাটির পর পাইলটের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে একটি টুইট প্রকাশ করেন, যেখানে তিনি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগকে পুনরায় উন্মোচিত করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের বায়ু পথে সন্ত্রাসী আক্রমণ, অস্ত্রচালিত সংঘাত এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে কঠোর করার দাবি বাড়িয়ে তুলেছে। তদুপরি, ভারত ও ইসরায়েল দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ভিত্তিতে পারস্পরিক বিমান সংযোগ বজায় রেখেছে; এই ঘটনার পূর্বে উভয় দেশের বিমান সংস্থা একে অপরের এয়ারলাইনকে নিরাপদে চলাচল নিশ্চিত করার জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা প্রোটোকল শেয়ার করছিল। তবে, উড়োজাহাজের কেবিনে ঘটিত এই অপ্রত্যাশিত সহিংসতা পূর্বের কোনো সতর্কতা বা নিরাপত্তা লঙ্ঘনের রেকর্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, যা ঘটনার পেছনে গোপনীয় পরিকল্পনা বা ব্যক্তিগত বিরোধের ইঙ্গিত দিতে পারে।
ঘটনার পর ভারতীয় দূতাবাস ও ইসরায়েলি বিমান সংস্থা উভয়ই দ্রুত মন্তব্য প্রকাশ করে। ভারতীয় দূতাবাসের মুখপাত্র জানান, আহত পাইলটের স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি চিকিৎসা দলের তত্ত্বাবধানে দ্রুত সেরে উঠবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারতীয় সরকার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে ঘটনাটির সম্পূর্ণ তদন্তের দাবি রাখবে এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। ইসরায়েলি বিমান সংস্থার প্রধানও বলেন, উড়োজাহাজের নিরাপত্তা প্রোটোকল পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে অতিরিক্ত নিরাপত্তা কর্মী ও স্ক্রিনিং ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি বিস্ময় ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে; সামাজিক মাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী পাইলটের দ্রুত সেরে ওঠার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার শক্তিশালীকরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
অধিকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাটির তদন্তে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট সকল ভিডিও রেকর্ড, সাক্ষ্য এবং বিমান নিরাপত্তা লগ সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। ইসরায়েলি নিরাপত্তা সংস্থা ও আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা সংস্থা (ICAO) একত্রে তদন্তের ত্বরান্বিত করার জন্য তথ্য শেয়ার করবে বলে জানিয়েছে। পাশাপাশি, উড়োজাহাজের পরিচালনাকারী এয়ারলাইনটি ভবিষ্যতে কেবিনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ক্যামেরা, ধাতব সনাক্তকারী যন্ত্র এবং প্রশিক্ষিত নিরাপত্তা কর্মী স্থাপন করবে। ভারতীয় সরকারও উড়োজাহাজে কাজ করা ভারতীয় কর্মীদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে এবং দু'দেশের কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে এই ধরনের ঘটনা পুনরায় না ঘটার জন্য সমন্বিত নীতি গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।