বেলজিয়ামের ফরাসিভাষী অঞ্চলগুলিতে শিক্ষার্থীদের বৃহৎ বিক্ষোভ গতকাল বিকেলে শহরের প্রধান চত্বরগুলোতে রেকর্ড করা হয়। শিক্ষার ব্যয় বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী চাপ এবং মৌলিক শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহে ঘাটতির প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা দশ হাজারেরও বেশি অনুমান করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর প্রতিক্রিয়ার ফলে মোট ১০৭ জন শিক্ষার্থী ও সহযাত্রী গ্রেফতার করা হয়, যার মধ্যে কয়েকজনকে অস্থায়ীভাবে জেলখানায় স্থানান্তর করা হয়েছে। এই ঘটনা বেলজিয়ামের শিক্ষানীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার ওপর তীব্র প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।

বেলজিয়ামের ফরাসিভাষী প্রদেশগুলোতে শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকটের মুখে রয়েছে। ২০২২ সালে সরকার শিক্ষার মোট বাজেটের ৩.৫ শতাংশ বৃদ্ধি করলেও, বাস্তবায়ন পর্যায়ে তহবিলের অপ্রতুলতা এবং বন্টনের অস্বচ্ছতা সমস্যাকে তীব্রতর করেছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও পেশাগত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে, একক শ্রেণিকক্ষে গড়ে ৪০‑৫০ জন শিক্ষার্থী বসে পড়ছে। ফলে শিক্ষকের কাজের চাপ বেড়ে গেছে এবং মৌলিক পাঠ্যপুস্তক, ল্যাব সরঞ্জাম ও ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা শিক্ষার গুণগত মানকে হ্রাস করছে। এই কাঠামোগত সমস্যাগুলো পূর্বে বহু প্রতিবেদন ও সংসদীয় আলোচনায় উত্থাপিত হলেও, কার্যকর সমাধান এখনও মসৃণভাবে বাস্তবায়িত হয়নি।

বিক্ষোভের নেতৃত্বে থাকা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি অ্যানি মার্টিন বলেছেন, ‘শিক্ষা আমাদের ভবিষ্যৎ, তবে বর্তমান অবস্থা আমাদের স্বপ্নকে ধ্বংস করছে; আমরা আর্থিক সহায়তা, শ্রেণিকক্ষের সঠিক আকার এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত শান্তি বজায় রাখতে পারব না’। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জঁ-লুক পেরেজ উল্লেখ করেছেন, সরকার ইতিমধ্যে অতিরিক্ত তহবিল বরাদ্দের পরিকল্পনা করছে এবং শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি করে কর্মপরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে তিনি স্বীকার করেছেন, ত্বরিত পদক্ষেপের অভাবে শিক্ষার্থীর হতাশা বৃদ্ধি পাচ্ছে। স্থানীয় পিতামাতার সমিতি ও নাগরিক সংগঠনগুলোও বিক্ষোভকে সমর্থন করে, তারা দাবি করে যে শিক্ষার মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য সরকারকে ত্বরিত ও স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন করতে হবে। এই পরিস্থিতি শহরের দৈনন্দিন চলাচলকে ব্যাহত করেছে; স্কুল বন্ধ, গণপরিবহনে দেরি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ক্ষতি দেখা দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর অফিস দ্রুত একটি জরুরি সভা আহ্বান করে, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিটিতে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা পাশাপাশি ছাত্র-শিক্ষক প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত হবে। তদুপরি, গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য আইনি সহায়তা প্রদান এবং মানবিক শর্তে জেলখানা থেকে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার আগামী তিন মাসের মধ্যে শিক্ষার ব্যয় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষের সর্বোচ্চ শিক্ষার্থী সংখ্যা ৩৫-এ সীমাবদ্ধ এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী সরবরাহের জন্য নতুন তহবিল প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বিশ্লেষকরা আশা করছেন, এই পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে বেলজিয়ামের শিক্ষার গুণগত মান ও সামাজিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।