জার্মানি ১৯৯০ সালে দুই জার্মানির ঐক্য ঘটার ৩৬ বছর পরও উগ্র ডানপন্থার উত্থান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হান্স-ডিট্রিখ গিল্ডেনব্র্যান্ডের নেতৃত্বে 'বিকল্প গণতন্ত্র' পার্টির ভোট শেয়ার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পূর্ব জার্মানির কিছু রাজ্যে বিশ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। বিশেষত, শরণার্থী নীতি ও শ্রমবাজারের পরিবর্তন নিয়ে জনমত বিভাজন উগ্র ডানপন্থার সমর্থনকে ত্বরান্বিত করেছে। এই প্রবণতা জার্মানির দীর্ঘস্থায়ী গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউনিফিকেশন পরবর্তী দশকগুলোতে পশ্চিম জার্মানির তুলনায় পূর্ব জার্মানির গড় মজুরি প্রায় ২০ শতাংশ কমে আছে, এবং বেকারত্বের হার এখনও উচ্চমাত্রায় রয়েছে। এই অর্থনৈতিক বৈষম্য সামাজিক অসন্তোষের মূলে পরিণত হয়েছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে কর্মসংস্থানের সুযোগের অভাবকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদে রূপান্তরিত হয়েছে। তদুপরি, ২০১৫ সালে শরণার্থী সংকটের পর দেশীয় জনসংখ্যার মধ্যে সাংস্কৃতিক পরিচয় ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে, যা উগ্র ডানপন্থার বর্ণবাদী ও জাতীয়তাবাদী রেটোরিককে সমর্থনকারী গোষ্ঠীর সংখ্যা বৃদ্ধি করেছে। এই পটভূমি উভয়ই অর্থনৈতিক ও সামাজিক দিক থেকে উগ্র ডানপন্থার উত্থানের ভিত্তি গঠন করেছে।

প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মুখপাত্র জোহানেস শ্মিট উল্লেখ করেছেন, 'গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের রক্ষার জন্য উগ্র ডানপন্থার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা অপরিহার্য'। একই সঙ্গে, সামাজিক বিজ্ঞানী ড. মারিয়া হেনরিখা বিশ্লেষণ করেছেন যে, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শরণার্থী নীতির প্রতি জনসাধারণের অসন্তোষ উগ্র ডানপন্থার জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলোও প্রতিবাদ রেলি ও সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে তারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের রক্ষা এবং ঘৃণামূলক ভাষার দমনকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এইসব প্রতিক্রিয়া দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।

ফেডারেল সরকার ইতিমধ্যে উগ্র ডানপন্থার তীব্রতা কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথমত, অর্থনৈতিক পুনর্বণ্টনের জন্য পূর্ব জার্মানির অবকাঠামো প্রকল্পে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে, যাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং আয় বৈষম্য হ্রাস পায়। দ্বিতীয়ত, শরণার্থী ও অভিবাসী নীতিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সংহতি ও সমন্বয়মূলক শিক্ষা প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে। তদুপরি, নির্বাচনী আইন সংস্কার করে পার্টির অর্থায়ন ও প্রচার কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, এই সমন্বিত নীতি বাস্তবায়ন হলে উগ্র ডানপন্থার প্রভাব ধীরে ধীরে কমে যাবে এবং জার্মানির গণতন্ত্র দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল থাকবে।