ফরাসি পর্যটন সংস্থা আইফেল টাওয়ারের প্রধান নির্বাহী, যিনি গত দশকে টাওয়ারের পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তীব্র সমালোচনার মুখে বছরের শেষের দিকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। নারী কর্মীদের সরিয়ে পুরুষ সহকর্মীদের দায়িত্ব অর্পণ করার সিদ্ধান্তের পরপরই কর্মী সমিতি ও নাগরিক সমাজের তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। এই পদক্ষেপটি দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে লিঙ্গ সমতা সংক্রান্ত আলোচনার তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে, ফলে টাওয়ারের সুনাম ও পরিচালনাগত স্থিতিশীলতা উভয়ই প্রভাবিত হয়েছে।
পদত্যাগের পেছনের মূল কারণটি হল টাওয়ারের ব্যবস্থাপনা কর্তৃক একাধিক নারী কর্মীর পদ থেকে সরিয়ে তাদের দায়িত্ব পুরুষ কর্মীদের মধ্যে পুনর্বণ্টন করা। এই নীতি পূর্বে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ছাড়াই কার্যকর করা হয়, ফলে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের স্রোত প্রবাহিত হয়। অতীতেও টাওয়ারের কর্মস্থলে লিঙ্গ বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে আসলেও, তা যথাযথভাবে সমাধান করা হয়নি। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা ও মানবাধিকার সংস্থার নজরে আসে, যা ফ্রান্সের লিঙ্গ সমতা নীতি ও কর্মস্থল ন্যায়বিচারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
পদত্যাগের ঘোষণার পর, প্রধানের ব্যক্তিগত বিবৃতি প্রকাশ পায় যেখানে তিনি বলেন, “আমি টাওয়ারের সেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, তবে বর্তমান পরিস্থিতি আমাকে পদত্যাগের দিকে ধাবিত করেছে।” শ্রমিক ইউনিয়ন ও নারীর অধিকার সংস্থা তীব্র সমালোচনা করে, তারা দাবি করে যে এই পদক্ষেপটি লিঙ্গ বৈষম্যের স্পষ্ট উদাহরণ। পাশাপাশি, পর্যটক ও সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়, অনেকেই টাওয়ারের পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার দাবি করে।
ফরাসি সরকার ও সংশ্লিষ্ট পর্যটন মন্ত্রণালয় দ্রুতই বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কমিটি টাওয়ারের মানবসম্পদ নীতি, কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি, টাওয়ারের নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ধরনের বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থাগুলিও টাওয়ারের সুনাম পুনরুদ্ধারের জন্য সমন্বিত পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে, যা টাওয়ারকে পুনরায় বিশ্বব্যাপী পর্যটকদের আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে।