গতকাল বিকাল ৩টায় ঢাকা শহরের সিভিল সার্জন অফিসে এক বিদায়‑যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ দশ বছর সিভিল সার্জন পদে কর্মরত ডাঃ সোহেল রায়হানকে বিদায় জানিয়ে, নতুন সিভিল সার্জন ডাঃ রফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য স্বাগত জানানো হয়। অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ‑মন্ত্রীর উপস্থিতি, হাসপাতালের প্রধান ডাক্তার, নার্সিং স্টাফ এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন নার্সদের একটি গোষ্ঠী থেকে চাঁদা আদায়ের দাবি উঠে আসে, যা উপস্থিত সকলের মধ্যে তৎক্ষণাৎ বিস্ময় ও উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তৎক্ষণাৎ ঘটনাটিকে হেডলাইন করে প্রকাশ করে, এবং সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ধরনের আর্থিক দাবি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুলেছে। এমন ঘটনা স্বাস্থ্যখাতে নৈতিক মানদণ্ডের অবনতি নির্দেশ করে এবং জনসাধারণের আস্থা ক্ষয় করে।

সিভিল সার্জন পদটি দেশের স্বাস্থ্য নীতি বাস্তবায়ন ও রোগীর সেবা মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অতীতেও বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিদায়‑যোগদান অনুষ্ঠানে উপহার, চাঁদা বা অন্যান্য আর্থিক অনুদানের দাবি দেখা গেছে, যদিও সেগুলো প্রায়শই অনানুষ্ঠানিক ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আর্থিক চাঁদা আদায়ের ঘটনা বাড়ছে, যা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নীতির সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে সিভিল সার্জন অফিসের বিদায়‑যোগদান অনুষ্ঠানটি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হওয়া উচিত ছিল, তবে নার্সদের চাঁদা আদায়ের দাবি ঘটনাটিকে নৈতিক ও আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে সমস্যাযুক্ত করে তুলেছে। এ ধরনের অনুপযুক্ত আর্থিক চাহিদা স্বাস্থ্যসেবার গুণগত মানকে হ্রাস করে এবং কর্মীদের মধ্যে অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি করে। অতএব, এই ঘটনা সংশ্লিষ্ট সকল স্তরে সতর্কতা ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্বাস্থ্য নীতি নির্ধারকরা আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর নির্দেশিকা প্রণয়ন করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনা রোধে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ডাঃ সোহেল রায়হান বিদায়ের সময় বলেন, তিনি কর্মকালের সব ধরনের সেবা ন্যায্যভাবে প্রদান করার চেষ্টা করেছেন এবং কোনো আর্থিক চাঁদা গ্রহণের ইচ্ছা নেই। নতুন সিভিল সার্জন ডাঃ রফিকুল ইসলামও একই রকম স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, তিনি কর্মপরিবেশে নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বকে অগ্রাধিকার দেবেন। নার্সদের প্রতিনিধিত্বকারী শ্রীমতি রেহানা জানান, চাঁদা আদায়ের দাবি তাদের স্বেচ্ছা এবং কোনো বাধ্যবাধকতা নয়, তবে তারা এই প্রথা বজায় রাখতে চান বলে উল্লেখ করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মি. আহমেদ আলী বলেন, এই ধরনের অনুপযুক্ত আর্থিক চাহিদা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন করে এবং তাৎক্ষণিক তদন্তের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাধারণ জনগণ সামাজিক মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতি বিস্তৃত সমালোচনা প্রকাশ করেছে এবং স্বচ্ছতা দাবি করেছে। বহু বিশ্লেষকও উল্লেখ করেছেন যে, এধরনের আর্থিক চাহিদা স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবল হ্রাস করে এবং রোগীর সেবা মানকে প্রভাবিত করে। এছাড়া, রোগীর পরিবারগুলোও এই ধরনের অনৈতিক প্রথা সম্পর্কে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ঘটনাটির উপর তৎক্ষণাৎ একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার সদস্য হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ‑মাননীয়, সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান এবং স্বতন্ত্র আইনি বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়েছে। কমিটি প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থলে জরুরি তদন্ত চালিয়ে প্রমাণ সংগ্রহ করবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলের বিবৃতি নেবে। তদন্তের ফলাফল অনুযায়ী যদি কোনো অবৈধ আর্থিক লেনদেন নিশ্চিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট নার্স, কর্মকর্তা ও সংগঠনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয় ভবিষ্যতে সকল সরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে আর্থিক চাঁদা আদায়ের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা করেছে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অডিট ব্যবস্থা চালু করবে। এই পদক্ষেপগুলো স্বাস্থ্যখাতে নৈতিক মানদণ্ড পুনঃস্থাপন এবং জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।