শিক্ষক‑শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের অভিযোগে রাকসু (গ্রাম্য কৃষি জ্ঞান সেবা ইউনিট) এর ইশতেহার বাস্তবায়ন ধীরগতিতে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। বছরজুড়ে রাকসু বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে প্রত্যাশিত সেবা ও সুবিধা গ্রামীণ কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। শিক্ষকদের মতে, রাকসু প্রতিনিধিরা ইশতেহারের মূল লক্ষ্য—বীজ, সার, যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণ সরবরাহ—এর চেয়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, ফলে প্রকল্পের ‘ফুলঝুরি’ মাত্রা সীমিত থেকে গেছে। এই পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন ও আয় বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা গ্রামাঞ্চলের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ।

রাকসু ২০১৯ সালে সরকারী উদ্যোগে গৃহীত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সাশ্রয়ী মূল্যের বীজ ও সার সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করা। প্রাথমিক ঘোষণায় রাকসুকে ‘কৃষি উন্নয়নের নতুন দিগন্ত’ বলা হয় এবং ২০২০ সালের মধ্যে সব গ্রামাঞ্চলে সমন্বিত সেবা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। তবে, পূর্ববর্তী বছরগুলোতে বাজেটের অপ্রতুলতা, প্রশাসনিক জটিলতা ও রাজনৈতিক বিরোধের কারণে প্রকল্পের কাঠামো ও কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পটভূমি রাকসুকে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি বলেন, রাকসু প্রতিনিধিরা মাঠে গিয়ে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের পরিবর্তে রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিতর্কে বেশি সময় ব্যয় করছেন, যা প্রকল্পের মূল লক্ষ্যকে ক্ষুণ্ন করেছে। ছাত্রনেতা রাবিয়া হক যুক্তি দেন, রাকসু ইশতেহারকে বাস্তবায়ন না করে ‘ফুলঝুরি’ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, ফলে কৃষকদের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। রাকসু কর্মকর্তারা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানান, তারা বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করছেন এবং প্রয়োজনীয় তহবিল সংগ্রহে ব্যস্ত। তবে, স্থানীয় কৃষকদের মতামত একমত—প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে তারা হতাশ।

অধিকাংশ বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারক রাকসু প্রকল্পের ত্বরান্বিত পর্যবেক্ষণ ও পুনর্গঠন দাবি করছেন। সরকার ইতিমধ্যে রাকসু তত্ত্বাবধানের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যার দায়িত্ব হবে বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধ করা। ভবিষ্যতে রাকসুকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি কৃষকের হাতে সেবা পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে মধ্যস্থতাকারী ব্যয় কমে এবং প্রকৃত সেবা দ্রুত সরবরাহ করা যায়। এই পদক্ষেপগুলো রাকসুর ‘ফুলঝুরি’কে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করার সম্ভাবনা তৈরি করছে, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য।