খাইবারের পাখতুনখাওয়ায় কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তে গভর্নর শাসন আরোপ করা হয়েছে। পূর্বে নির্বাচনী অশান্তি এবং আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের পরিপ্রেক্ষিতে, গৃহস্থালির নিরাপত্তা ও জনসাধারণের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গভর্নর শাসনের অধীনে প্রাদেশিক প্রশাসন সরাসরি কেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে থাকবে এবং সকল সরকারি কাজকর্মে কেন্দ্রীয় নীতি প্রয়োগ করা হবে। এই সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রভাব হিসেবে, প্রাদেশিক সংসদের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং নির্বাচনের পুনর্বিন্যাসের জন্য একটি সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।
গভর্নর শাসনের পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত বছর পাখতুনখাওয়ায় দুইটি প্রধান রাজনৈতিক দল নির্বাচনী জোট গঠন করে সরকার গঠন করেছিল, তবে জোটের মধ্যে মতবিরোধের কারণে সরকারী কাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। তদুপরি, সাম্প্রতিক সময়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আক্রমণ, সড়ক অবরোধ এবং নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে বিরোধের ফলে জনশান্তি নষ্ট হয়েছে। এই অশান্তি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার পূর্বে কয়েকটি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, ফলে গভর্নর শাসনকে শেষ অবলম্বন হিসেবে গ্রহণ করা হয়।
গভর্নর শাসন আরোপের পর বিভিন্ন পক্ষের মন্তব্য উঠে এসেছে। কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই ব্যবস্থা সাময়িক এবং আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, জনসেবা পুনরায় চালু করা এবং স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে, স্থানীয় বিরোধী দলগুলোর নেতারা এই পদক্ষেপকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার হস্তক্ষেপ হিসেবে সমালোচনা করে, এবং দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়ে থাকে। সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগের স্রোত প্রবাহিত হয়েছে; কিছু নাগরিক নিরাপত্তা ও মৌলিক সেবার পুনরুদ্ধারকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার অন্যরা রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের ক্ষয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রমে সাময়িক বন্ধের ফলে ক্ষতি হয়েছে, তবে সরকারী তত্ত্বাবধানে বাজার পুনরায় খোলার আশায় ব্যবসায়ীরা স্বস্তি পেয়েছেন।
কেন্দ্রীয় সরকার এখন গভর্নর শাসনের সময়সীমা নির্ধারণের পাশাপাশি একটি স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়া গড়ে তোলার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। প্রাথমিকভাবে, শাসনকালকে ছয় মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে এবং এই সময়ের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, নির্বাচনী তালিকা আপডেট এবং ভোটার তালিকা পরিষ্কার করা হবে। এছাড়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। ভবিষ্যতে, যদি শাসনকাল শেষ হওয়ার পরেও রাজনৈতিক সমঝোতা না হয়, তবে কেন্দ্রীয় সরকার অতিরিক্ত সময় বাড়ানোর সম্ভাবনা উল্লেখ করেছে, তবে তা সংবিধানিক বিধান অনুসারে হবে। এই পদক্ষেপগুলো পাখতুনখাওয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে।