গতকাল ঢাকা শহরের জাতীয় সম্মেলন হলের প্রধান সিঁড়িতে আইনমন্ত্রী শফিকুল ইসলাম রশিদ এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আইনগত সহায়তার মাধ্যমে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, দেশের নিম্ন আয়ের পরিবার ও দুর্বল গোষ্ঠীর জন্য আইনগত সেবা সহজলভ্য করা দেশের সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। বর্তমান পরিস্থিতিতে অপরাধের হার বৃদ্ধি, বিচারিক প্রক্রিয়ার দীর্ঘায়ু এবং আইনি সেবার অপ্রতুলতা সাধারণ নাগরিককে বিচারের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে, যা সরকারের তাত্ক্ষণিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। এই প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, আইনগত সহায়তার কাঠামোকে শক্তিশালী করে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং তা দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এটি দেশের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বাংলাদেশে আইনগত সহায়তার কাঠামো প্রথমবার ২০০৩ সালে গৃহীত আইনগত সহায়তা আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে, দশকের পর দশক পার হওয়া সত্ত্বেও সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা অপর্যাপ্ত এবং গ্রামীণ অঞ্চলে সেবা পৌঁছাতে অপ্রতুলতা রয়ে গেছে। মানবাধিকার সংস্থা অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষই যথাযথ আইনগত পরামর্শ ও প্রতিনিধিত্বের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া, আদালতে মামলা নথিভুক্ত করার গড় সময় ১২০ দিন অতিক্রম করে, যা দরিদ্র জনগণের জন্য আর্থিক ও মানসিক বোঝা বাড়িয়ে দেয়। এসব তথ্য সরকারকে আইনগত সহায়তা নীতি পুনর্বিবেচনা ও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তুলেছে।
সম্মেলন শেষে আইনমন্ত্রী রশিদ উল্লেখ করেন, “আইনগত সহায়তা শুধুমাত্র একটি সেবা নয়, এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক স্তম্ভ।” তিনি অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ, প্রশিক্ষিত আইনজীবীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা সরবরাহের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। মানবাধিকার সংস্থা ‘বিচারবিন্দু’ এর সভাপতি রুবেল হোসেন বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগ যদি বাস্তবে কার্যকর হয়, তবে দুর্বল গোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় বড় পরিবর্তন আসবে।” সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; বহু পরিবার আশা প্রকাশ করেছে যে, ভবিষ্যতে তারা সুলভ ও দ্রুত আইনগত সহায়তা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ইতিমধ্যে আইনগত সহায়তা উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ১২০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল অনুমোদন করেছে এবং পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের বাস্তবায়ন শুরু হবে। পরিকল্পনায় আইনগত সহায়তা কেন্দ্রের সংখ্যা দ্বিগুণ করা, গ্রামীণ এলাকায় মোবাইল আইনি সেবা ইউনিট চালু করা এবং অনলাইন পরামর্শ সেবা চালু করা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, আইন মন্ত্রিপরিষদ নতুন আইনগত সহায়তা প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করে তরুণ আইনজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে। সরকার এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়ার সময় কমিয়ে, ন্যায়বিচারের প্রবেশযোগ্যতা বাড়িয়ে দেশের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে চায়।