মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৬ শিরোপা অর্জনের লক্ষ্যে সাজরিয়া তাবাসসুম প্রমা টোকিওতে আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছেন। দেশের ফ্যাশন ও মডেলিং জগতে বহু বছর ধরে সক্রিয় থাকা প্রমা, এইবার বাংলাদেশের সংস্কৃতি, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা বিশ্বজনীন মঞ্চে তুলে ধরবেন। টোকিওর বিশাল ভেন্যুতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব ও প্রত্যাশা দেশব্যাপী উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। এই পদক্ষেপটি কেবল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়, বরং জাতীয় গর্ব ও আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি চলাকালীন প্রমা দেশের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও হস্তশিল্পের নকশা অন্তর্ভুক্ত করে একটি বিশেষ থিম তৈরি করেছেন, যা পরিবেশ সচেতনতা ও টেকসই ফ্যাশনের বার্তা বহন করে। এই উদ্যোগটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশকে সৃজনশীল ও দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে।
সাজরিয়া তাবাসসুম প্রমা ২০১৯ সালে মিস বাংলাদেশ শিরোপা অর্জন করে দেশের মডেলিং জগতে প্রথম পদক্ষেপ নেন। এরপর তিনি বহু আন্তর্জাতিক ফ্যাশন শোতে অংশগ্রহণ করে গ্লোবাল ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে তিনি ঢাকা ফ্যাশন উইক, সিলেট ফ্যাশন ফেস্টিভ্যাল এবং চট্টগ্রাম ফ্যাশন ফোরামসহ দেশীয় প্রধান ইভেন্টে মডেলিং করেন, যা তাকে জাতীয় স্তরে জনপ্রিয়তা এনে দেয়। তাছাড়া, প্রমা পরিবেশ সংরক্ষণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, তিনি 'গ্রীন ফ্যাশন' প্রকল্পের মাধ্যমে পুনর্ব্যবহৃত উপকরণ দিয়ে তৈরি পোশাক প্রদর্শন করেছেন। এইসব সাফল্য তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মিস বাংলাদেশ ২০২৬ প্রতিযোগিতার আয়োজক কমিটি প্রধান শ্রীমতি রেহানা বেগমের মতে, প্রমার নির্বাচন শুধুমাত্র সৌন্দর্যের ভিত্তিতে নয়, বরং তার সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সাংস্কৃতিক সচেতনতার ওপর ভিত্তি করে করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, 'সাজরিয়া আমাদের দেশের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি একসাথে উপস্থাপন করতে সক্ষম, যা আন্তর্জাতিক বিচারকমণ্ডলীর কাছে আমাদের পরিচয়কে শক্তিশালী করবে।' সাধারণ জনগণের মধ্যে এই খবরটি সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, বহু তরুণ মডেল ও ফ্যাশন উত্সাহী প্রমার পেছনে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া, বিভিন্ন শিল্প সংস্থা ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমিতি এই উদ্যোগকে দেশের গর্বের বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
সরকারি পর্যায়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা প্রমার টোকিও সফরের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রদান করেছে। সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক প্রচারাভিযান চালু করে, যেখানে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প, সঙ্গীত ও নৃত্যের ভিডিও উপস্থাপন করা হবে। পাশাপাশি, ফ্যাশন ডিজাইনার ও শিল্পী সংস্থা একত্রে একটি সমন্বিত পোশাক সংগ্রহ প্রস্তুত করেছে, যা মঞ্চে প্রদর্শিত হবে এবং পরবর্তীতে দেশীয় বাজারে বিক্রয়ের জন্য প্রস্তুত হবে। ভবিষ্যতে মিস ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ প্রতিযোগিতাকে নিয়মিতভাবে দেশের সাংস্কৃতিক ও পরিবেশগত বার্তা প্রচারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করা হবে, এবং এ ধরণের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে পর্যটন ও রপ্তানি শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।