সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হঠাৎ আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে গত ২৪ ঘণ্টায় মোট ১৪৪টি ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত করা হয়েছে। এ বিধিনিষেধের প্রভাব সরাসরি ২২,০০০েরও বেশি যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করেছে; যাঁরা ইতিমধ্যে টিকিট ক্রয় করে রিয়াদ‑দাম্মাম গন্তব্যে যাত্রা নির্ধারণ করছিলেন, তাঁরা হঠাৎ করে ভ্রমণ বাতিলের মুখোমুখি হয়েছেন। এ পরিস্থিতি দেশের বিমান সংস্থা ও পর্যটন শিল্পে অশান্তি ছড়িয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সৌদি আরবের বিমান চলাচল নীতি সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। বিমান সংস্থা জানায়, এই সিদ্ধান্তের পেছনে নিরাপত্তা সংক্রান্ত সতর্কতা ও আকাশপথের অতিরিক্ত চাপকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া, রিয়াদ‑দাম্মাম রুটে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারও একই সময়ে সমন্বিত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে।
সৌদি আরবের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ ও আকাশপথের অতিরিক্ত ব্যবহারজনিত সমস্যার সমাধানে সরকারী কর্তৃপক্ষ রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা চেক ও উড্ডয়ন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। গত কয়েক মাসে হজ ও উমরাহ মৌসুমের সঙ্গে যুক্ত বৃহৎ যাত্রী প্রবাহের ফলে বিমানবন্দরের টার্মিনাল ও রানওয়ে ক্ষমতা চরম সীমায় পৌঁছেছে; ফলে অস্থায়ীভাবে কিছু ফ্লাইটের জন্য টেক‑অফ ও ল্যান্ডিং অনুমোদন সীমিত করা হয়েছে। পূর্বে ২০২২ সালে একই ধরনের বিধিনিষেধের ফলে ৯৮টি ফ্লাইট বাতিল হওয়া এবং প্রায় ১৫,০০০ যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল, যা এইবারের সিদ্ধান্তের পেছনে অতীতের অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা নির্দেশ করে।
বিমান সংস্থার মুখপাত্র আজকের সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বাতিলকৃত ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে জেদ্দা ও মদিনা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে রিয়াদ‑দাম্মাম গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ প্রদান করা হবে; তবে তা শুধুমাত্র জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে এবং আসন খালি থাকলে সীমিত হবে। মন্ত্রণালয় অবিলম্বে প্রভাবিত যাত্রীদের জন্য রিফান্ড ও পুনঃনির্ধারণের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষের সাড়া শোনা গেছে; বহু পরিবার ভ্রমণ পরিকল্পনা বাতিল করে ব্যবসায়িক ও পারিবারিক বাধ্যবাধকতা পূরণে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। পর্যটন সংস্থা ও এজেন্সিগুলোও বিকল্প রুটের জন্য অতিরিক্ত চার্জ আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছে।
সৌদি সিভিল এভিয়েশন অথরিটি (GACA) এখন পর্যন্ত জেদ্দা ও মদিনা বিমানবন্দরে অতিরিক্ত টার্মিনাল ও সেবা সুবিধা বাড়িয়ে প্রায় ১,২০০টি অতিরিক্ত সিট উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে বাতিলকৃত ফ্লাইটের যাত্রীদের পুনঃবিন্যাস সম্ভব হয়। এছাড়া, আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে রিয়াদ‑দাম্মাম রুটের জন্য অস্থায়ী সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করা হবে এবং নিরাপত্তা চেকের সময় কমিয়ে গতি বাড়ানোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। সরকারী সূত্রে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে একই ধরনের অতিরিক্ত চাপ এড়াতে বিমানবন্দরের অবকাঠামো সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ প্রকল্প দ্রুততর করা হবে, যাতে আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য স্থিতিশীল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।