প্রাক্তন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে একটি সংবাদ সম্মেলনে ইরানের সম্ভাব্য সামরিক হামলা সম্পর্কে সতর্কতা প্রকাশ করে বলেন, ইরানের কোনো আক্রমণ লস অ্যাঞ্জেলেস অথবা সান দিয়েগো শহরকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, ইরানের রকেট ও ড্রোন প্রযুক্তি যদি যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে ব্যবহার করা হয়, তবে সেসব নগরীর অবকাঠামো ও মানবিক ক্ষতি অপরিমেয় হবে। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃবৃন্দ এবং রিপাবলিকান পার্টির কিছু উচ্চপদস্থ কর্মী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে, মন্তব্যকে অযৌক্তিক ও উত্তেজনাপূর্ণ বলে নিন্দা করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দীর্ঘস্থায়ী কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে। গত বছর থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও স্যান্সারশিপের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে ছিল, এবং যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বে ঘোষিত 'সর্বোচ্চ চাপ' নীতি ইরানের কূটনৈতিক পদক্ষেপকে আরও কঠিন করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সাইবার আক্রমণ ও সামুদ্রিক সীমান্তে সামরিক চর্চা বাড়ার ফলে দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্পের মন্তব্যকে কিছু বিশ্লেষক ইরানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সতর্কতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেন, তবে অন্যদিকে তা অতিরিক্ত উত্তেজনা বাড়ানোর ঝুঁকি হিসেবে দেখেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভার্নর গ্যাভিন নিউসাম এবং রিপাবলিকান সেনেটর ড্যানি হ্যামিলটন উভয়েই ট্রাম্পের বক্তব্যকে 'অসতর্ক' এবং 'জনসাধারণের নিরাপত্তা ঝুঁকির' দিকে নিয়ে যাওয়া হিসেবে নিন্দা করেন। নিউসাম বলেন, ইরানের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে আলোচনা করা দরকার, তবে তা ভিত্তিহীন ভয়ভীতি ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। হ্যামিলটনও যুক্তি দেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি বাস্তব তথ্যের উপর ভিত্তি করে গঠন করা উচিত, ব্যক্তিগত মতামত নয়। এই মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যম ও সংবাদপত্রে ব্যাপক বিতর্ক দেখা যায়; সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগের পাশাপাশি ট্রাম্পের সমর্থকগণও তার বক্তব্যকে স্বাগত জানায়।
যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও সিকিউরিটি এজেন্সি ট্রাম্পের মন্তব্যের পর দ্রুত একটি স্পষ্টীকরণ প্রকাশ করে, ইরানের কোনো সরাসরি হুমকি না থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নীতি অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানায়। পাশাপাশি, ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য সরকার জরুরি প্রস্তুতি পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করে, সিভিল ডিফেন্স ও জরুরি সেবা সংস্থার সমন্বয় বাড়ানোর নির্দেশ দেয়। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদও ইরান‑যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক সংলাপের আহ্বান জানায়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়কে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে উল্লেখ করে, দেশীয় নিরাপত্তা নীতি প্রণয়নে বহুপাক্ষিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছে।