মরক্কোর রাজনীতি ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে; ফাতিমা জাহরা আল মানসুরি দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি শুধুমাত্র মরক্কোর জন্য নয়, আরব বিশ্বের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তিনি আরব দেশগুলোর মধ্যে সরকারপ্রধানের দায়িত্বে আসা দ্বিতীয় নারী, তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর। শপথের সময় জাতীয় পতাকা ও ধর্মীয় প্রতীক সমন্বিত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন রাজা মোহাম্মদ VI, যিনি নতুন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেছেন।

ফাতিমা মানসুরির প্রধানমন্ত্রী পদ গ্রহণের পটভূমিতে রয়েছে মরক্কোর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নারীর ক্ষমতায়নের দীর্ঘমেয়াদী প্রচেষ্টা। ২০১১ সালের সংবিধান সংশোধনের পর থেকে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে; সংসদে নারী প্রতিনিধিত্বের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাছাড়া, পূর্বে নারী মন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন, তবে প্রধানমন্ত্রী পদে প্রথমবারের মতো নারীর আসন অর্জন করা এখন পর্যন্ত অপ্রত্যাশিত। এই পদোন্নতি দেশের যুবক-যুবতীর মধ্যে নারীর নেতৃত্বের প্রতি আস্থা জাগিয়ে তুলেছে।

প্রধানমন্ত্রী শপথ গ্রহণের পর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মরক্কোর নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো এই পদোন্নতিকে লিঙ্গ সমতার দিকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে এবং সরকারকে নারীর অধিকার রক্ষায় আরও দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে। আরব জোটের দেশগুলো, বিশেষ করে তিউনিসিয়া ও জর্ডান, ফাতিমা মানসুরিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন যে তার নেতৃত্বে মরক্কো আরও সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা অর্জন করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসও এই ঘটনাকে “গণতান্ত্রিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক” বলে প্রশংসা করেছে।

কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে অগ্রসর হয়েছে; অর্থনৈতিক সংস্কার, তরুণ কর্মসংস্থান ও নারীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হচ্ছে। ফাতিমা মানসুরি সরকার গৃহস্থালী ও আন্তর্জাতিক স্তরে সমতা ভিত্তিক নীতি চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যার মধ্যে নারীর উদ্যোক্তা উদ্যোগের জন্য আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে মরক্কো এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আরব অঞ্চলে লিঙ্গ সমতা ও টেকসই উন্নয়নের মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।