চীনের রাষ্ট্রপতি সি চিন পিং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে ব্রিকস সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ স্বার্থের সরাসরি বিরোধী এবং অঞ্চলভিত্তিক নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে ক্ষুণ্ন করে। তাই চীন ব্রিকসের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যৌথভাবে শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে প্রস্তুত, যা অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

মধ্যপ্রাচ্য বহু বছর ধরে ধর্মীয়, জাতিগত ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থের সংঘাতে জর্জরিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে লক্ষাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, বিশাল সংখ্যক পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং বাণিজ্যিক পথ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ব্রিকস, অর্থাৎ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা, বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী পাঁচটি বৃহৎ উন্নয়নশীল দেশ। এদের মধ্যে রাশিয়া ও চীন ইতিমধ্যে অঞ্চলভিত্তিক কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা গড়ে তুলেছে; রাশিয়া সিরিয়ায় সামরিক সহায়তা প্রদান করেছে, আর চীন অবকাঠামো বিনিয়োগ ও মানবিক সহায়তা দিয়ে সক্রিয় রয়েছে। এই পটভূমিতে সি চিন পিংয়ের আহ্বান ব্রিকসকে একটি সমন্বিত শান্তি উদ্যোগের দিকে পরিচালিত করার সম্ভাবনা তৈরি করে।

সংশ্লিষ্ট পক্ষের মন্তব্যে দেখা যায়, রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের এই প্রস্তাবকে “অঞ্চলীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার যৌথ দায়িত্ব” হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। ভারতীয় বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, ব্রিকসের সমন্বিত উদ্যোগে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত হলে সংঘাতের মানবিক প্রভাব কমে যাবে। একই সঙ্গে, মধ্যপ্রাচ্যের সাধারণ জনগণ শান্তি ও নিরাপত্তার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে; তারা মানবিক সহায়তা, পুনর্বাসন ও মৌলিক সেবার দ্রুত পুনরুদ্ধার চায়। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা চীনের উদ্যোগকে “বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক সূচনা” বলে প্রশংসা করেছেন।

বর্তমানে, চীন ও ব্রিকসের অন্যান্য সদস্য দেশগুলো ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট সরকার ও গোষ্ঠীর সঙ্গে গোপনীয় আলোচনায় লিপ্ত। চীন আন্তর্জাতিক মঞ্চে শান্তি আলোচনার আয়োজনের জন্য একটি উচ্চ-স্তরের বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যেখানে অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও মানবিক সহায়তার বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে, ব্রিকসের সমন্বিত কূটনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে সংঘাতের মূল কারণগুলো, যেমন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সম্পদ বিতরণ, সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগের সফলতা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে শক্তিশালী করবে।