বিডি টেলিকম রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি) আজ জাতীয় টেলিকম সেক্টরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি জরুরি বৈঠক আহ্বান করে, যেখানে মোবাইল অপারেটরদের তরঙ্গ নবায়ন ব্যয়কে আরও যৌক্তিক করার দাবি করা হয়েছে। এই আহ্বানটি সম্প্রতি প্রকাশিত 'স্পেকট্রাম রিনিউয়াল রেটিং কমিটি'র প্রস্তাবনা অনুসরণ করে, যেখানে দেখা গেছে যে বর্তমান নবায়ন ফি বাজারের বাস্তবিক চাহিদা ও গ্রাহক ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিটিআরসির মুখপাত্রের মতে, অতিরিক্ত ব্যয় অপারেটরদের লাভের মার্জিনকে ক্ষয় করে, ফলে শেষ ব্যবহারকারীকে উচ্চ টারিফে ভোগ করতে হয়, যা দেশের ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি লক্ষ্যের বিপরীতে।

তরঙ্গ নবায়ন ব্যয়ের সমস্যার পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো ৩৫০০ MHz থেকে ৩৬০০ MHz পর্যন্ত বেসব্যান্ড স্পেকট্রাম ৪০ বছরের জন্য লিলামের মাধ্যমে অপারেটরদের হস্তান্তর করা হয়। সেই সময়ে নির্ধারিত ফি বাজারের প্রাথমিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল, তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, ডেটা ট্র্যাফিকের তীব্র বৃদ্ধি এবং গ্রাহকের চাহিদার পরিবর্তনের ফলে বর্তমান ফি কাঠামো পুরনো হয়ে পড়েছে। অতিরিক্তভাবে, আন্তর্জাতিক তুলনায় বাংলাদেশে স্পেকট্রাম ফি তুলনামূলকভাবে উচ্চ, যা বিদেশি বিনিয়োগের আকর্ষণ কমিয়ে দেয় এবং দেশীয় টেলিকম শিল্পের প্রতিযোগিতামূলকতা হ্রাস করে।

বিটিআরসির আহ্বানের পর, প্রধান তিনটি মোবাইল অপারেটর—গ্রামীন, রোবাস্টা ও এয়ারটেল—তাদের সংশ্লিষ্ট মুখপাত্রের মাধ্যমে মন্তব্য প্রকাশ করে। গ্রামীনের প্রধান কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, “যদি নবায়ন ব্যয় অতিরিক্ত হয়, তবে আমরা গ্রাহকদের জন্য ডেটা প্যাকেজের দাম বাড়াতে বাধ্য হব, যা শেষ ব্যবহারকারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” রোবাস্টা একই রকম উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সরকারকে “বাজারভিত্তিক, স্বচ্ছ ও ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া গড়ে তোলার” আহ্বান জানায়। এদিকে, ভোক্তা অধিকার সংস্থা ‘সামাজিক ন্যায়’ এই বিষয়টি গ্রাহক সুরক্ষার দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করে, এবং দাবি করে যে উচ্চ ফি গ্রাহকের অধিকার লঙ্ঘন করে।

অধিকতরভাবে, বিটিআরসি আগামী মাসের মধ্যে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে, যা স্পেকট্রাম নবায়ন ফি নির্ধারণের জন্য আন্তর্জাতিক বেস্ট প্র্যাকটিস, দেশীয় অর্থনৈতিক অবস্থা এবং গ্রাহকের পেমেন্ট ক্ষমতা বিবেচনা করবে। তদুপরি, কমিশন নতুন নীতি প্রণয়নের পূর্বে পাবলিক কনসালটেশন চালু করবে, যাতে সকল স্টেকহোল্ডার তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে। ভবিষ্যতে, যদি ফি হ্রাস পায়, তবে তা মোবাইল অপারেটরদের আর্থিক চাপ কমিয়ে, সাশ্রয়ী ডেটা সেবা প্রদানকে উৎসাহিত করবে এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করবে।