ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (UCL) আজ ঘোষণা করেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থানীয় ৫৫টি অনলাইন কোর্স এখন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এই পদক্ষেপটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং বিশেষত উচ্চশিক্ষার প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কোর্সগুলোতে বিজ্ঞান, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি সহ বিভিন্ন শাখার আধুনিক পাঠ্যক্রম অন্তর্ভুক্ত, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষার্থীরা এই সুযোগের প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।
এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছে গ্লোবাল শিক্ষা সমতা অর্জনের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। পূর্বে UCL আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত সংখ্যক স্কলারশিপ এবং পেইড কোর্স প্রদান করলেও, আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা গ্রহণে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার এবং ইন্টারনেটের সর্বজনীন প্রবেশাধিকারের উন্নতি এই ধরনের বিনামূল্যের অনলাইন শিক্ষার ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তাছাড়া, কোভিড‑১৯ মহামারীর পর শিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর ত্বরান্বিত হওয়ায়, বিশ্বব্যাপী শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার উন্মুক্ততা বৃদ্ধি করার দিকে মনোনিবেশ করেছে।
প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ, নীতি নির্ধারক এবং শিল্পক্ষেত্রের নেতারা সক্রিয়ভাবে মতামত প্রকাশ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাবিদ ড. রশিদ আহমেদ উল্লেখ করেছেন, “এই কোর্সগুলো আমাদের শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞানভান্ডার গড়ে তুলতে সহায়তা করবে এবং দেশীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনের ভিত্তি শক্তিশালী করবে।” অন্যদিকে, বেসরকারি সেক্টরের প্রতিনিধিরা এই উদ্যোগকে মানবসম্পদ উন্নয়নের নতুন দিক হিসেবে স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাবের আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই সুযোগের ব্যাপক প্রচার ও ব্যবহার নিশ্চিত করতে সামাজিক মিডিয়া এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে তথ্য প্রচার শুরু করেছে।
অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সুবিধা নিশ্চিত করতে, UCL এবং বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজতর করতে অনলাইন পোর্টাল চালু করবে এবং কোর্স সম্পন্নের পর সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হবে। এছাড়া, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিনামূল্যের কোর্সের সংখ্যা বৃদ্ধি করে, দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় সাধনে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।