ডেঙ্গু রোগের দ্রুত বিস্তার ও মৃত্যুহার বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি দেশজুড়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধমূলক প্রচারপত্র বিতরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গৃহীত সিদ্ধান্তটি গত শনিবার গুলশান সদর দফতরে অনুষ্ঠিত এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গু মোকাবেলায় গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষত জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব হাসপাতালে মশারি সরবরাহের পরিকল্পনা, বিশদভাবে আলোচনা করা হয়। বিএনপি এই পদক্ষেপকে জনস্বাস্থ্যের জরুরি চাহিদা মেটাতে এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে।
ডেঙ্গু রোগের আক্রমণগত বৃদ্ধি সাম্প্রতিক মাসে দেশের বহু অঞ্চলে রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষত গ্রীষ্মকালীন বৃষ্টিপাতের পর মশার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় রোগের সংক্রমণ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। সরকার পূর্বে মশারি বিতরণ, ডেঙ্গু‑নিরোধক ক্যাম্পেইন, এবং রোগীর ত্বরিত সেবা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করেছে। তবে সচেতনতামূলক তথ্যের অভাব ও জনসাধারণের অপ্রতুল জ্ঞান এখনও রোগের বিস্তারকে বাধা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এ কারণেই অতিরিক্ত তথ্যপ্রচার ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তীব্রতর হয়েছে।
বিএনপি জাতীয় সম্পাদক ড. হাবিবুর রহমান সভায় বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে তথ্যের সরাসরি পৌঁছানো সর্বোচ্চ কার্যকরী উপায়। প্রচারপত্রের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল চিহ্নিত করা, বাসায় মশারি ব্যবহার এবং রোগের প্রাথমিক লক্ষণ চেনার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হবে।” স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপ‑সচিব ড. রেহানা বেগমও উল্লেখ করেন, “সরকারের মশারি সরবরাহের সঙ্গে সঙ্গে তথ্যপ্রচারও সমান গুরুত্বের। জনগণের আচরণ পরিবর্তনই রোগের হার কমাতে মূল চাবিকাঠি।” সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই উদ্যোগের প্রতি ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; বহু পরিবার ইতিমধ্যে প্রচারপত্রের প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে এবং মশারি ব্যবহারকে দৈনন্দিন অভ্যাসে রূপান্তরিত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
সরকার ইতিমধ্যে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোকে মশারি সরবরাহের নির্দেশনা জারি করেছে এবং সরবরাহের তদারকি করার জন্য একটি ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ দল গঠন করেছে। ভবিষ্যতে ডেঙ্গু রোগের প্রবণতা হ্রাসে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত কাজের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত সচেতনতামূলক পরিকল্পনা প্রণয়ন করছে, যার মধ্যে টেলিভিশন, রেডিও এবং সামাজিক মাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় ভাষায় প্রচারপত্র বিতরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। বিএনপির এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়ে সরকার উভয় পক্ষের সমন্বয়ে একটি ব্যাপক ডেঙ্গু প্রতিরোধ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে।