প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
তথ্য প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাধা

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশটির অভ্যন্তরে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিংয়ের প
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 9, 2026 প্রিন্ট: 13 Oct 2026, 10:13 AM
যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞায় আটটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাধা

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রণালয় সম্প্রতি দেশটির অভ্যন্তরে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর নীতিমালা প্রবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। শ্রমমন্ত্রী কিথ সোন্ডারলিংয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে জানা যায়, পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামের আওতায় মাইক্রোসফট, ইনফোসিস এবং টাটাসহ মোট আটটি বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের নতুন ও চলমান কোনো ভিসা আবেদন আর প্রক্রিয়া করা হবে না। এই সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের সুরক্ষা এবং দেশীয় কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই আকস্মিক সিদ্ধান্তটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং এটি দেশটির অভিবাসন নীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

এই নিষেধাজ্ঞার পটভূমিতে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারের প্রতি দৃষ্টি নিবন্ধন। শ্রমমন্ত্রণালয়ের মতে, অনেক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান দেশীয় কর্মীদের পরিবর্তে বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পার্মানেন্ট লেবার সার্টিফিকেশন প্রোগ্রামটি মূলত এমন কর্মীদের জন্য, যারা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে চান এবং যাদের পদে দেশীয় কর্মী পাওয়া যায় না। তবে মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দেখা গেছে, কিছু প্রতিষ্ঠান এই শর্তগুলোকে উপেক্ষা করে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করছে, যা দেশীয় শ্রমিকদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করছে। এই আটটি প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশের মাধ্যমে সরকার তাদের নীতিমালা মানতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র উল্লিখিত আটটি প্রতিষ্ঠানকে নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি খাতকে প্রভাবিত করবে। বিদেশি কর্মীরা প্রযুক্তি খাতে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও দক্ষতার প্রবাহ নিশ্চিত করে থাকেন, যার অভাবে প্রতিষ্ঠানগুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবনের গতি কমে যেতে পারে। এছাড়াও, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বিদেশি প্রবাসীরাও এই সিদ্ধান্তের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তি নির্ভর সেবাসমূহে পরিবর্তন আসতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মী সংখ্যা কমানোর বা বিকল্প ব্যবস্থা খোঁজার চেষ্টা শুরু করবে।

কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে শ্রমমন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে যে, তারা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে সরাসরি আলোচনা করে এই নীতিমালা কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা নিশ্চিত করবে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রবাসী কর্মীদের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের প্রযুক্তি কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত থাকলে তাদের ভিসা নবায়ন বা নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা বাধা সৃষ্টি করতে পারে। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং শ্রমবাজারের ভারসাম্য বজায় থাকবে। তবে এই সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে তা সময়ের সাথেই দেখা যাবে, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতের বিকাশের ক্ষেত্রে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.