প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

চোখের আলো ফেরাতে পারে জিন থেরাপি

গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, জিন থেরাপির মাধ্যমে চোখে সরাসরি ইনজেকশন দিলে গ্যাংলিয়ন কোষগুলো পুনরায় আলো শনাক্ত করার ক্ষমত
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 9, 2026 প্রিন্ট: 12 Oct 2026, 08:55 AM
চোখের আলো ফেরাতে পারে জিন থেরাপি

গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, জিন থেরাপির মাধ্যমে চোখে সরাসরি ইনজেকশন দিলে গ্যাংলিয়ন কোষগুলো পুনরায় আলো শনাক্ত করার ক্ষমতা অর্জন করে। এই পদ্ধতি বিশেষ করে জেনেটিকভাবে সৃষ্ট রেটিনাল ডেজেনারেশন রোগে আক্রান্ত রোগীদের জন্য নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে। প্রথমবারের মতো রোগীর দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হওয়া দেখা গেছে, যা চিকিৎসা ক্ষেত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

রেটিনাল ডেজেনারেশন রোগ, বিশেষ করে রেটিনাল ডিস্ট্রফি ও লিউকোডিস্ট্রফি, দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকরী থেরাপি না পেয়ে রোগীর জীবনের মান হ্রাসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বে ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট, লেজার থেরাপি ও কৃত্রিম রেটিনা ইমপ্ল্যান্টের মতো বিকল্পগুলো সীমিত সাফল্য দেখিয়েছে। তবে গত দশকে জিন থেরাপি গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটেছে; রোগীর চোখের রেটিনায় নির্দিষ্ট জিনের অনুলিপি প্রবেশ করিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কোষের কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতি প্রথমে প্রাণী পরীক্ষায় সফলতা অর্জন করে, পরে মানব ক্লিনিকাল ট্রায়ালে নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা প্রমাণ করে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে।

গবেষণার প্রধান বিজ্ঞানী ড. রাহিমুল হক উল্লেখ করেন, “গ্যাংলিয়ন কোষে সরাসরি জিন ইনজেকশন করা মানে দৃষ্টিশক্তির মূল সিগন্যাল ট্রান্সমিশন পুনরায় চালু করা।” রোগী সুমাইয়া বেগম, যিনি ৪৫ বছর বয়সে এই থেরাপি গ্রহণ করেন, বলেন, “ইনজেকশনের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি প্রথমবারের মতো সূর্যের আলোতে স্পষ্টভাবে দেখতে পেয়েছি, যা আমার জীবনে নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে।” দেশের বিভিন্ন দৃষ্টিশক্তি সংরক্ষণ সংস্থা ও রোগী অধিকার গোষ্ঠী এই breakthrough-কে স্বাগত জানিয়ে সরকারকে দ্রুত অনুমোদন ও বিস্তৃত ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালু করার আহ্বান জানায়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে এই থেরাপি নিয়ে জরুরি বৈজ্ঞানিক পর্যালোচনা কমিটি গঠন করেছে এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বৃহৎ পরিসরের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। মন্ত্রীর অফিসের বিবৃতি অনুযায়ী, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের পর প্রথম বছরে ১০০টি রোগীর জন্য এই থেরাপি উপলব্ধ করা হবে, এবং সফল ফলাফল পেলে সরকারি স্বাস্থ্য বীমা স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে। ভবিষ্যতে জিন থেরাপি ভিত্তিক অন্যান্য দৃষ্টিশক্তি সংক্রান্ত রোগের চিকিৎসা ক্ষেত্রেও গবেষণা বাড়িয়ে তোলা হবে, যা দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.