প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসক দেখাতে ঢাকায় এসেছিলেন মা, প্রাণ গেল সড়কে

ঢাকার রোড ৩১‑এ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলায় এক মায়ের সঙ্গে তার কন্যা, যিনি জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে ছিলেন, হঠাৎ গাড়ি-ট্রাকের সংঘর্ষে জড়িয়ে গ
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 8, 2026 প্রিন্ট: 14 Oct 2026, 01:42 PM
মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসক দেখাতে ঢাকায় এসেছিলেন মা, প্রাণ গেল সড়কে

ঢাকার রোড ৩১‑এ গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাবেলায় এক মায়ের সঙ্গে তার কন্যা, যিনি জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য হাসপাতালে যাওয়ার পথে ছিলেন, হঠাৎ গাড়ি-ট্রাকের সংঘর্ষে জড়িয়ে গেছেন। ট্রাফিক জ্যাম এবং অপ্রতুল সিগন্যালের কারণে গতি কমে যাওয়ায় গাড়ি চালক হঠাৎ ব্রেক না দিতে পারায় ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। দুর্ঘটনা ঘটার মুহূর্তে মা ও কন্যা দুজনেই গাড়ির ভেতরে চেপে গিয়ে আহত হন; তবে দ্রুত গৃহীত প্রাথমিক চিকিৎসার পরেও কন্যার শ্বাসরুদ্ধ হয়ে যায় এবং রাস্তায়ই তার প্রাণ ত্যাগ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা দল দ্রুত পৌঁছায়, তবে কন্যার মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকার সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অবিকল ট্রাফিক নিয়মের লঙ্ঘন রয়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাত্রিকালীন সময়ে অপ্রতুল আলো, অপর্যাপ্ত রোড সাইনেজ এবং অযথা গতি সীমা অতিক্রম করা চালকদের আচরণ দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। গত বছরেই ঢাকা শহরে মোট ৩,৪৫৬টি সড়ক দুর্ঘটনা রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে ১,২৯৮টি গাঢ় আঘাতজনিত এবং ৪৭৯টি প্রাণঘাতী। একই দিনে শাওন হোসেন নামে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়ায় বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হয়, যা দেশের সড়ক নিরাপত্তা সংকটের আরেকটি উদাহরণ।

দুর্ঘটনা ঘটার পর পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। উপস্থিত এক সাক্ষী বলেন, গাড়ি চালক ট্রাফিক সিগন্যাল উপেক্ষা করে দ্রুত গতি বাড়িয়ে গিয়েছিলেন, ফলে ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গিয়েছে। মা, যিনি আহত হলেও জীবিত, পুলিশকে জানান যে তিনি তার কন্যাকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে ছিলেন এবং এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ট্রাফিক আইন প্রয়োগের দাবি জানিয়ে প্রতিবাদসূচক রেলি চালায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত তদন্তের ফলাফল প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং দায়ী চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করবে। ঢাকা ট্রাফিক পুলিশ ইতিমধ্যে সিগন্যালের সময়সূচি পুনর্বিবেচনা, রোড সাইনেজের উন্নতি এবং অপ্রয়োজনীয় গতি সীমা বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এছাড়া, সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং জনসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে। ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তি-ভিত্তিক ট্রাফিক মনিটরিং সিস্টেম এবং জরুরি সেবা দ্রুততর করার জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন করা হবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.