প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

জন–আস্থা অর্জনই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে পুলিশের সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ হল জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তিনি উল্লেখ
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 8, 2026 প্রিন্ট: 14 Oct 2026, 01:40 PM
জন–আস্থা অর্জনই এখন পুলিশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির প্রথম আলোর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে পুলিশের সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জ হল জনসাধারণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। তিনি উল্লেখ করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসের সেতু গড়ে তোলা এখন অপরিহার্য, নইলে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হবে না। এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, দেশের নিরাপত্তা কাঠামোর মূল স্তম্ভ হিসেবে পুলিশকে পুনরায় সামাজিক স্বীকৃতি অর্জনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা, যা নীতি নির্ধারক ও নাগরিক উভয়েরই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

পুলিশ সংস্থার আস্থা সংকটের পটভূমি বহু বছর আগে থেকে বিদ্যমান। অতীতের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং স্বচ্ছতার অভাবের ফলে জনগণের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ বপন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও দেশীয় মানবাধিকার সংস্থা পুলিশ বাহিনীর ওপর সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যা সংস্কার দাবি তীব্র করেছে। এসবের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বহুবার আইনগত ও কাঠামোগত সংস্কার চালু করেছে, তবু বাস্তবায়নের ধীরগতি ও অপ্রতুল তদারকি সমস্যার মূল কারণ রয়ে গেছে।

সাক্ষাৎকারে আইজিপি ফকিরের সঙ্গে কথা বলার পর, বিশেষ প্রতিবেদক নজরুল ইসলাম উল্লেখ করেন, ফকিরের বক্তব্যে মানবাধিকার রক্ষার জন্য প্রশিক্ষণ, স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত পদায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই দৃষ্টিভঙ্গিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পুলিশকে জনগণের সঙ্গে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার মূল সমাধান করতে হবে। তবে কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষকও সতর্ক করেন, সংস্কার কেবল শীর্ষে ঘোষণার মাধ্যমে নয়, তলদেশে বাস্তবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে হবে, নইলে জনমত আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে কয়েকটি মূল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথমত, মানবাধিকার প্রশিক্ষণকে বাধ্যতামূলক করে নতুন প্রশিক্ষণ মডিউল চালু করা হয়েছে; দ্বিতীয়ত, স্বতন্ত্র তদারকি কমিটি গঠন করে অভিযোগের দ্রুত ও ন্যায্য সমাধান নিশ্চিত করা হচ্ছে; তৃতীয়ত, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পদায়নের জন্য স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রণয়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে আইজিপি আরও প্রযুক্তিগত সহায়তা ও তথ্য বিশ্লেষণ ব্যবহার করে অপরাধের পূর্বাভাস ও প্রতিরোধে মনোযোগ দেবেন, যাতে জনসাধারণের আস্থা ধীরে ধীরে পুনর্গঠন হয় এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.