প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

শিক্ষক নিয়োগে কেন ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠন করা দরকার

সরকারের সর্বশেষ ঘোষণায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 5, 2026 প্রিন্ট: 13 Oct 2026, 11:09 AM
শিক্ষক নিয়োগে কেন ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠন করা দরকার

সরকারের সর্বশেষ ঘোষণায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘শিক্ষা সার্ভিস কমিশন’ গঠনের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপটি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিক্ষক নির্বাচনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে merit‑based পদ্ধতি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য বহন করে। বিশেষত, গ্রাম ও শহর উভয় স্তরে শিক্ষক ঘাটতি ও মানের বৈষম্য দূর করার জন্য এই কমিশনের দ্রুত কার্যক্রমের প্রত্যাশা রয়েছে।

পূর্বে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বিভিন্ন স্তরে বিচ্ছিন্ন ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে; বহু ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পার্টির প্রভাব, স্থানীয় সংযোগ ও অবৈধ অনুদানের মাধ্যমে অযোগ্য প্রার্থীর নিয়োগ ঘটেছে। অতীতের কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, এমন অনিয়মের ফলে শিক্ষার গুণগত মান হ্রাস পেয়ে শিক্ষার্থীর ফলাফলেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এছাড়া, বর্তমান নিয়োগ পদ্ধতিতে প্রার্থীর দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতার যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় যোগ্য শিক্ষকের সংখ্যা কমে গেছে, যা দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রী এই ঘোষণার পর এক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, “শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করা জাতির ভবিষ্যৎ গঠনের মূল চাবিকাঠি। কমিশনের মাধ্যমে প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন করা হবে।” শিক্ষক ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, “অবৈধ হস্তক্ষেপের শেষের দিক এসে গেছে; এখন আমাদের প্রত্যাশা হল কমিশনের কার্যকরী বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।” শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা যুক্তি দেন, কমিশনের স্বতন্ত্রতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলে শিক্ষার মানোন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাবে। সাধারণ জনগণও এই পরিবর্তনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় যেখানে শিক্ষক ঘাটতি দীর্ঘদিনের সমস্যারূপে রয়ে গিয়েছিল।

সরকার ইতিমধ্যে কমিশনের গঠন সংক্রান্ত আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া দ্রুততর করার নির্দেশ দিয়েছে এবং নির্বাচিত সদস্যদের জন্য স্বতন্ত্র নির্বাচন কমিটি গঠন করে শর্তাবলী নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। কমিশনের প্রথম দফা ২০২৪ সালের শেষের দিকে কার্যকরী হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এবং তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক নিয়োগে merit‑based পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। ভবিষ্যতে এই কমিশন শিক্ষকের প্রশিক্ষণ, কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন ও ক্যারিয়ার উন্নয়নের জন্যও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে, যা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.