প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
বিশেষ প্রতিবেদন

জিপিএ-৫ না পেলে বিয়ে ঠেকানো যেত না ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিথি মালির

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিথি মালি উপজাতির একটি তরুণ দম্পতির বিয়ের পরিকল্পনা সম্প্রতি গৃহীত একটি সরকারি নীতির কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গৃহস্থালি পরিকল্পনা অনুযায়
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 4, 2026 প্রিন্ট: 14 Oct 2026, 07:24 PM
জিপিএ-৫ না পেলে বিয়ে ঠেকানো যেত না ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর তিথি মালির

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিথি মালি উপজাতির একটি তরুণ দম্পতির বিয়ের পরিকল্পনা সম্প্রতি গৃহীত একটি সরকারি নীতির কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গৃহস্থালি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দম্পতির উভয় পক্ষকে জিপিএ-৫ (গড় পারফরম্যান্স অ্যাসেসমেন্ট) শর্ত পূরণ না করলে বিয়ের অনুমোদন প্রদান করা হবে না, এমন নির্দেশনা স্থানীয় প্রশাসন থেকে প্রকাশিত হয়েছে। তিথি মালি সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী, বয়স ও পারিবারিক সম্মতি যথেষ্ট, তবে এই নতুন শর্তের ফলে দম্পতির বিয়ের তারিখ স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনাটি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তীব্র আলোচনা উস্কে দিয়েছে, কারণ এটি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক অধিকার ও সামাজিক সমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

তিথি মালি উপজাতি বাংলাদেশের অন্যতম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, যাদের জনসংখ্যা প্রায় এক লাখের কম এবং প্রধানত চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বসবাস করে। ঐতিহ্যগতভাবে, তাদের বিয়ে-বন্ধন সামাজিক ও ধর্মীয় রীতির ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়, যেখানে সরকারী কোনো শিক্ষাগত বা পারফরম্যান্স শর্ত আরোপ করা হয় না। তবে গত বছর থেকে কিছু জেলা প্রশাসক জিপিএ-৫ শর্ত আরোপের দাবি করে, যা মূলত শিক্ষাগত মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করা হয়। এই শর্তের পেছনে সরকারী দৃষ্টিভঙ্গি হল, যুবকদের শিক্ষাগত উন্নয়নকে উৎসাহিত করা, তবে তিথি মালি সম্প্রদায়ের জন্য এটি অপ্রাসঙ্গিক এবং সাংস্কৃতিক হস্তক্ষেপের রূপে বিবেচিত হচ্ছে।

তিথি মালি সম্প্রদায়ের প্রধান নেতা শ্রী হাবিবুল হক জানান, 'আমাদের ঐতিহ্য ও পরিচয়কে এভাবে শর্তযুক্ত করা যায় না; জিপিএ-৫ শর্ত আমাদের জন্য অপ্রয়োজনীয় এবং বঞ্চনাকারী।' স্থানীয় যুবক-যুবতীরা এই শর্তকে তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বাধা হিসেবে দেখছে এবং সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রতিবাদ চালু করেছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মো. রশিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, 'শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ছাড়া সমাজের অগ্রগতি সম্ভব নয়; তাই এই শর্ত প্রয়োগ করা হচ্ছে।' সাধারণ জনগণও এই বিতর্কে বিভক্ত, কেউ শর্তকে সমর্থন করে, আবার কেউ সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষার পক্ষে সাড়া দেয়।

বিষয়টি উত্থাপনের পর, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে তিথি মালি সম্প্রদায়ের বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে নীতি পুনর্বিবেচনা করতে আহ্বান জানায়। সরকারী সূত্রে জানানো হয়েছে, শর্তের প্রয়োগে নমনীয়তা আনা হবে এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ছাড় বা বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে, জাতীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক নীতি প্রণয়নে এই ধরনের সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিশ্চিত করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবু, তিথি মালি সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুমোদন পুনরায় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত, তাদের সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে অনিশ্চয়তা বজায় থাকবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.