কানাডা ভিত্তিক শ্রমিক নেতা শোয়েব সাঈদ ইউরোপে কোম্পানি সভার ফাঁকে চার দিনের অবকাশে পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশে পৌঁছান। এই সফরটি তার কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, কারণ তিনি দেশের বহিরাগত শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে চান। ওয়ারশের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও সঙ্গীতময় পরিবেশে তিনি চার দিন কাটিয়ে, শ্রমিকদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা অনুসন্ধান করেন।
শোয়েব সাঈদ বাংলাদেশের শ্রমিক সংগঠনের অন্যতম প্রধান মুখ, যিনি বহু বছর ধরে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সঙ্গে সঙ্গে বিদেশি শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করছেন। পূর্বে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে, শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক নীতি গঠনে অবদান রেখেছেন। ওয়ারশ সফরের পূর্বে তিনি পোল্যান্ডের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সূচনা করেন, যা দুই দেশের শ্রমিক বিনিময় ও প্রশিক্ষণ প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরে শোয়েব সাঈদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি উল্লেখ করেন, “ওয়ারশের পিয়ানোবাদকের সুরে আমি আমাদের শ্রমিকদের স্বপ্নের সুর শুনি; আমাদের কাজের গতি ও গুণগত মান উন্নয়নে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে হবে।” পোল্যান্ডের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রেজা গাব্রিয়েলসকি বলেন, “বাংলাদেশের শ্রমিক নেতার সঙ্গে এই ধরনের সাংস্কৃতিক ও নীতি সংলাপ আমাদের দু'দেশের পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াবে।” স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সদস্যরা শোয়েব সাঈদের সফরকে গর্বের বিষয় হিসেবে স্বাগত জানিয়ে, ভবিষ্যতে আরও বেশি কর্মসংস্থান সুযোগের প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয় শোয়েব সাঈদের এই সফরের পরিপ্রেক্ষিতে পোল্যান্ডের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া, শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে, বিদেশি শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা বিধি প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে ওয়ারশের মতো সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে, শ্রমিকদের পেশাগত দক্ষতা ও সাংস্কৃতিক সচেতনতা উভয়ই উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।