প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

হাজারীবাগে পিকআপ চালককে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকা হাই কোর্টে আজ রায় ঘোষণার সময় রাজারবাগের এক পিকআপ চালককে হত্যা করা অপরাধীর ওপর মৃত্যুদণ্ড আর তিনজন সহ-অসামির ওপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আরোপ করা হয়। রায়ের পর রা
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Sep 30, 2026 প্রিন্ট: 12 Oct 2026, 11:00 AM
হাজারীবাগে পিকআপ চালককে হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ঢাকা হাই কোর্টে আজ রায় ঘোষণার সময় রাজারবাগের এক পিকআপ চালককে হত্যা করা অপরাধীর ওপর মৃত্যুদণ্ড আর তিনজন সহ-অসামির ওপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড আরোপ করা হয়। রায়ের পর রায়পরিণত রাহুল হাওলাদারকে আদালতে হাজির করা হয় এবং সাজা পরোয়ানা দিয়ে তৎক্ষণাৎ কারাগারে পাঠানো হয়। অপর তিন সহ-অসামি পলাতক অবস্থায় রয়ে গেছেন, ফলে তাদের ধরা না পড়া পর্যন্ত মামলার সম্পূর্ণ রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। রায়ের তাৎক্ষণিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে বিচারক বলেন, এই রকম কঠোর রায় সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অপরাধের প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

মামলাটির পটভূমি ২০২২ সালের শীতকালে শুরু হয়, যখন হাজারীবাগের এক ব্যস্ত বাজারে পিকআপ চালক রশিদুল হক, যিনি স্থানীয় ব্যবসায়িক গন্তব্যে পণ্য পরিবহন করতেন, হঠাৎ করে দুইজন অপরিচিতের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলে দ্রুত তদন্তের জন্য পুলিশ দল গঠন করা হয় এবং প্রাথমিক সাক্ষ্য সংগ্রহে শিকারের পরিবার, গৃহস্থালি কর্মী ও পার্শ্ববর্তী দোকানদারদের বিবৃতি নেওয়া হয়। তদন্তে প্রকাশ পায়, অপরাধীরা গৃহস্থালি চুরি ও চোরাচালান সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত, এবং রশিদের গাড়ি চুরি করার পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় হিংসাত্মক রূপ নেয়। প্রমাণের ভিত্তিতে রাহুল হাওলাদার এবং তার সহ-অসামিরা গ্রেফতার করা হয়, তবে তিনজন সহ-অসামি পালিয়ে যায় এবং এখনও অনুসন্ধানাধীন।

রশিদের পরিবার রায়ের পর গভীর শোক প্রকাশ করে, তবে তারা ন্যায়বিচারের জন্য সন্তোষ পায়। শিকারের মা, ফাতেমা বেগম, রায়ের পর আদালতে গিয়ে বললেন, “আমার ছেলে আর ফিরে আসবে না, তবে তার মৃত্যুর পরেও তার ন্যায়সঙ্গত বিচার আমাদের জন্য একমাত্র সান্ত্বনা।” অপরদিকে, রাহুলের আইনজীবী রায়কে ‘অতিরিক্ত’ বলে সমালোচনা করেন এবং আপিলের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই রায়ের ব্যাপক আলোচনা চলছে; মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ডের মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা রায়কে অপরাধের প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় বলে স্বীকৃতি দিচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ রাহুলের আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং পলাতক সহ-অসামিদের অনুসন্ধানকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। পুলিশ বিশেষ দলে গিয়ে গোপন তথ্য ও সিআইডি ব্যবহার করে পলাতকদের ধরা পড়ার জন্য ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি, হাই কোর্টের বিচারিক সংস্থা ভবিষ্যতে একই রকম হিংসাত্মক অপরাধের প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি প্রয়োগের নীতি পুনর্বিবেচনা করবে। সরকারও রাস্তায় নিরাপত্তা বাড়াতে, গাড়ি চালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধমূলক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তীব্র আইন প্রয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.