প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
আন্তজাতিক

ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের ঘোষণা, ভাষা শিক্ষার শর্ত দিলেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্প্রতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি কঠোর নীতিমালা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে স্কুলে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হবে। এই ঘোষণ
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Sep 20, 2026 প্রিন্ট: 14 Oct 2026, 11:31 AM
ইতালিতে স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধের ঘোষণা, ভাষা শিক্ষার শর্ত দিলেন প্রধানমন্ত্রী মেলোনি

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সম্প্রতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি কঠোর নীতিমালা চালু করার ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে স্কুলে বোরকা পরা নিষিদ্ধ করা হবে। এই ঘোষণাটি ইতালিতে সংস্কৃতি ও সামাজিক মানসম্মততা নিয়ে চলমান তীব্র বিতর্কের মাঝে এসেছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মেলোনির এই পদক্ষেপটি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ধর্মীয় চিহ্নের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে সীমাবদ্ধতা আরোপ করার উদ্যোগ হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা ইতালির বহুসংস্কৃতিতে ভিত্তি করে গড়ে ওঠা সামাজিক কাঠামোতে গভীর প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

এই নীতি ঘোষণার পটভূমি হিসেবে ইতালিতে অভিবাসন ও সংস্কৃতিগত পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে এসেছে। গত কয়েক দশকে ইতালিতে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশটির সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিদৃশ্যপটে পরিবর্তন এনেছে। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ঐক্য ও সাংস্কৃতিক পরিচয় বজায় রাখার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হওয়ায় সেখানে এমন কোনো চিহ্ন থাকতে পারে না যা দেশের সাংস্কৃতিক মানসম্মততার সাথে সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেছেন যে, শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের নবীন প্রজন্মকে একত্রিত করা সম্ভব এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সীমাবদ্ধতা আরোপ করা অপরিহার্য।

এই ঘোষণার সাথে সাথে মেলোনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে, তাদের অভিভাবকদেরও ইতালীয় ভাষা শিখতে হবে। এই শর্তটি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে, যা তাদের সামাজিক সংযুক্তি ও বাস্তবায়নে প্রভাব ফেলবে। দেশের বিভিন্ন মহলে এই সিদ্ধান্তের সমর্থন ও বিরোধিতা উভয়ই শোনা যাচ্ছে। কিছু মহল এটি সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানালেও, অন্যরা এটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সামাজিক সহনশীলতার বিরুদ্ধে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দৃষ্টি করছেন।

কর্তৃপক্ষ এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় করে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রণয়ন করছে। ভবিষ্যতে এই নীতিমালা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এর ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়বে, তা নিয়ে দেশজুড়ে নজরদারি চলছে। ইতালির রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এই সিদ্ধান্তটি ভবিষ্যতে আরও বিতর্কের জন্ম দিতে পারে, বিশেষ করে যখন দেশটি অভিবাসন নীতি ও সামাজিক সংযুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করছে। কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে দেশের সাংস্কৃতিক ঐক্য বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে দেশের মূল্যবোধের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.