প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
আন্তজাতিক

হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই না করতে রাজি হয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রাতে টুইটারে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াই না ক
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Sep 20, 2026 প্রিন্ট: 13 Oct 2026, 10:09 AM
হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই না করতে রাজি হয়েছে: ট্রাম্প

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত রাতে টুইটারে প্রকাশ্যে জানিয়েছেন, ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক লড়াই না করার জন্য রাজি হয়েছে। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে হুতিদের সাম্প্রতিক রিয়াদে আক্রমণ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ায় গৃহীত বিমান হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই মন্তব্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিবেশে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত দেয় এবং মধ্যপ্রাচ্যের জটিল সংঘাতের পুনঃমূল্যায়নের দরকারীয়তা তুলে ধরে।

হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী ২০১৪ সাল থেকে হুদি আন্দোলনের অংশ হিসেবে ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে অস্ত্রবিরতি ও রাজনৈতিক স্বীকৃতির দাবি করে আসছে। ২০১৫ সালে হুদি গোষ্ঠী সরকারী বাহিনীর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত হয়ে দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধের সূচনা করে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো, বিশেষত সৌদি আরব, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে হুদি গোষ্ঠীর ক্ষমতা হ্রাসের চেষ্টা করে আসছে। সাম্প্রতিক মাসে হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একাধিক রকেট আক্রমণ চালায়, যার ফলে বহু নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিন্দা অর্জন করে। এই পটভূমিতে ট্রাম্পের হুতিদের সঙ্গে শত্রুতার অবসানের দাবি একটি নতুন কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ নির্দেশ করে।

ট্রাম্পের টুইটের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ডিফেন্স বিভাগ থেকে একাধিক আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশ পায়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুতিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করার ইঙ্গিত দেন, আর ডিফেন্স বিভাগের কর্মকর্তা হুতিদের সামরিক কার্যক্রমে আর কোনো আক্রমণ না করার শর্তে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ রক্ষা করা হবে বলে উল্লেখ করেন। হুতি গোষ্ঠীর মুখপাত্রও এই মন্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শত্রুতা শেষ করতে ইচ্ছুক এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে অগ্রসর হতে প্রস্তুত। তবে সৌদি আরবের সরকারী সূত্র হুতিদের এই ঘোষণাকে সন্দেহের সঙ্গে গ্রহণ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত সামরিক সহায়তা প্রত্যাখ্যানের সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। অঞ্চলীয় জনগণের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু লোক শান্তির আশায় আশাবাদী, আবার অন্যরা হুতিদের পূর্বের আক্রমণকে স্মরণ করে সতর্কতা বজায় রাখে।

এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতির পুনঃনির্ধারণের সূচক হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার হুতিদের সঙ্গে সরাসরি সংলাপের মাধ্যমে সংঘাতের সমাপ্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা চালু করেছে বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে, সৌদি আরবের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বজায় রেখে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে হুতিদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা, এবং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্গঠন এই ঘোষণার মূল দিক হতে পারে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র নীতি ও আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনা করে, এ ধরনের উন্নয়ন আমাদের দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করবে এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.