সাম্প্রতিক কাবিনে গৃহীত সিদ্ধান্তে দেনমোহর বাড়ানোর ঘোষণা করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে, বিভিন্ন লেনদেনের উপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ দেনমোহর আরোপ করা হবে। ফলে সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী ও রিয়েল এস্টেট সেক্টরে বড় প্রভাব পড়বে। এই পদক্ষেপের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হলো, লেনদেনের মূল্য বৃদ্ধি পেলে কর রাজস্ব বাড়বে, কিন্তু একই সাথে লেনদেনের প্রবাহ কমে যেতে পারে। কাবিনের এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক গোষ্ঠী উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ দেনমোহর বৃদ্ধির ফলে লেনদেনের খরচ বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপের গতি কমে যাবে।
দেনমোহর বৃদ্ধির পেছনে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ১৯৭১ সালের পর থেকে দেনমোহর ধার্য করা হয়েছে, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এর হার ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সংকট ও কর রাজস্বের ঘাটতি পূরণে কাবিনে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পূর্বে ২ শতাংশের হারে ছিল, এখন ৭ শতাংশে বাড়ানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের পেছনে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় কারণই রয়েছে, কারণ রাজনীতিবিদরা আভিজাত্য প্রদর্শনের জন্য বড় টাকার দেনমোহর দাবি করে থাকেন।
অভিযোগকারী দল ও সাধারণ জনগণ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তারা যুক্তি দিয়েছে যে, ‘দেনমোহর তো শুধু কাগজে লেখার বিষয়, কে আর দেয়!’ বলে কাবিনের সিদ্ধান্তকে অবাস্তব বলে সমালোচনা করেছে। ধর্মীয় পণ্ডিতরা ইসলামের বিধান অনুযায়ী দেনমোহরকে ‘সুদ’ হিসেবে গণ্য করে থাকেন, তাই তারা এই সিদ্ধান্তকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। অপরদিকে, কাবিনের সদস্যরা যুক্তি দিয়েছেন যে, দেনমোহর বৃদ্ধির মাধ্যমে কর রাজস্ব বাড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে।
কর্তৃপক্ষ বর্তমানে এই সিদ্ধান্তের আইনি পর্যালোচনা করছে এবং আগামী সপ্তাহে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে বিস্তারিত আলোচনা করবে। এছাড়া, অর্থ মন্ত্রণালয় ও কর বিভাগে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দেনমোহর বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রভাব কমানো যায়। ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব মূল্যায়ন করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে, যাতে কর রাজস্ব বাড়ানোর সাথে সাথে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে।