প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের দাবি হেফাজতের

হেফাজত ইস্লামিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের একটি বৃহৎ সমাবেশে সরকারকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে আহ্বান জানায়েছেন। তারা জোর দিয়ে
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Sep 13, 2026 প্রিন্ট: 12 Oct 2026, 10:09 AM
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের দাবি হেফাজতের

হেফাজত ইস্লামিক আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের একটি বৃহৎ সমাবেশে সরকারকে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের দাবি জানিয়ে আহ্বান জানায়েছেন। তারা জোর দিয়ে বলেন, মুসলিম‑প্রধান দেশে এমন কোনো আইন গ্রহণযোগ্য নয় যা ইসলামি শরিয়াহের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। সমাবেশে উপস্থিত হাজারো সমর্থক নীরবভাবে সাড়া দিয়ে তৎক্ষণাৎ সংশোধনের দাবি পুনরাবৃত্তি করেন। এই দাবি দেশের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ার ওপর ধর্মীয় সংবেদনশীলতার প্রভাবকে পুনরায় উন্মোচন করে এবং আইনগত সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরে।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনটি মূলত ২০১৯ সালে গৃহীত হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল সম্পত্তি লেনদেনের প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও স্বচ্ছ করা। তবে আইনটি প্রণয়নের পর থেকে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী ও আইন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে ধর্মীয় নীতি ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সঙ্গে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষ করে, কিছু ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তরের শর্তাবলী ও শাস্তি সংক্রান্ত বিধানকে ইসলামি নীতি বিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অতএব, হেফাজতের এই দাবির পটভূমিতে আইনটির ধর্মীয় দিকের পুনর্মূল্যায়ন ও সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

হেফাজতের প্রধান মুখপাত্র মুআয়েনুল হক বলেন, "যদি আইনটি শরিয়াহবিরোধী হয়, তবে তা দেশের মৌলিক নৈতিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তা অবিলম্বে সংশোধন করা উচিত"। সরকারের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রুবেল হোসেন উল্লেখ করেন, "বিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংশোধনের প্রস্তাব বিবেচনা করা হবে, তবে তা সংবিধানিক ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে"। আইন বিশেষজ্ঞ ড. সাইফুল ইসলামও মন্তব্য করেন, "ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও আধুনিক আইনি কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করা একটি জটিল কাজ, তবে তা সম্ভব যদি সকল পক্ষের মতামতকে সমন্বিত করা হয়"। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু মানুষ হেফাজতের দাবিকে ধর্মীয় স্বার্থ রক্ষার দিক থেকে সমর্থন করেন, অন্যদিকে কিছু নাগরিক আইনগত স্বচ্ছতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের দিক থেকে সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা প্রশ্নবিদ্ধ করেন।

সরকার বর্তমানে হেফাজতের দাবির প্রেক্ষিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে আইন মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ শুরু করেছে। এই কমিটি ধর্মীয় পণ্ডিত, আইন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করবে এবং আগামী দুই মাসের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করবে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়ার পর সংশোধনী প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সংশোধনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে, সরকার ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও আইনগত স্বচ্ছতার মধ্যে সমন্বয় রক্ষার জন্য ধারাবাহিক পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে, যাতে জাতীয় আইনি কাঠামো আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ থাকে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.