বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে স্মার্ট টিভির ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রতিক তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যে, এলজি কোম্পানির স্মার্ট টিভিগুলো স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকলেও ব্যবহারকারীদের আলাপ-আলোচনা ও ঘরের ভেতরের শব্দ সংগ্রহ করতে পারে। এই তথ্যগুলো কোম্পানির সার্ভারে পাঠানো হয়, যা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে যখন টিভিটি সম্পূর্ণ বন্ধ অবস্থায় থাকে, তখনও এর ভেতরের মাইক্রোফোন সক্রিয় থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে, যা পরিবারের গোপনীয় আলোচনা বা ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করছে।
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সাথে সাথে ডেটা সংগ্রহের নীতিমালায় যে ফাঁকফোকর তৈরি হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এলজি টিভির তথ্য সংগ্রহের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি হলো অটোমেটিক কনটেন্ট রিকগনিশন বা এসিআর। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে টিভি অডিও ও ভিডিওর ছোট অংশ সংগ্রহ করে সেগুলো বিভিন্ন কনটেন্টের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে পারে। এর ফলে কোম্পানিটি শুধুমাত্র ভিডিও কনটেন্ট চেনার পাশাপাশি পরিবেশগত শব্দ ও মানুষের কথোপকথনের ধরন পর্যন্ত বিশ্লেষণ করতে সক্ষম হয়। এই প্রক্রিয়াটি ব্যবহারকারীদের সম্মতি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হতে পারে, যা গোপনীয়তা সংরক্ষণের নীতিমালা লঙ্ঘনের আশংকা জাগিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, স্মার্ট ডিভাইসের এই ধরনের তথ্য সংগ্রহ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে দেখা যাচ্ছে, মানুষ এখন তাদের নিজের ঘরের ভেতরেও সম্পূর্ণ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতে পারছে না। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হওয়া ব্যক্তিগত আলোচনা বা ব্যবসায়িক গোপনীয় তথ্য এই ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, এই সংগৃহীত তথ্যগুলো বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে বিক্রি বা ব্যবহারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আচরণগত প্রোফাইল তৈরি করা হয়, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার সীমানা ভেঙে ফেলে।
কর্তৃপক্ষ ও প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এই বিষয়ে এখন মনোযোগী হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের মতো সংস্থাগুলো স্মার্ট ডিভাইসের ডেটা সংগ্রহ নীতিমালা কঠোরভাবে পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিচ্ছে। ব্যবহারকারীদের জন্য প্রস্তাব করা হচ্ছে, যখন টিভি ব্যবহার না করা হয় তখন মাইক্রোফোন বন্ধ রাখার বাধ্যতামূলক বিকল্প যুক্ত করা এবং ডেটা সংগ্রহের জন্য স্পষ্ট সম্মতি নেওয়া নিশ্চিত করা। কোম্পানিগুলোকেও তাদের গোপনীয়তা নীতিমালা স্বচ্ছভাবে প্রকাশ্যে রাখতে এবং ব্যবহারকারীদের ডেটা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর শর্তাবলী মানতে হবে বলে মনে করা হচ্ছে।