রাজশাহীর পোরশা উপজেলায় বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে একটি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় কনের ভাই-বোনসহ চারজন নিহত হয়েছেন। আজ রবিবার বিকেলে উপজেলার কালীগঞ্জ ইউনিয়নের একটি রাস্তায় এ ভয়ংকর দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে কনের পরিবারের সদস্যরা একটি গাড়িতে করে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ করে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগতির কাভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাদের গাড়ির সাথে প্রচণ্ড বেগে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়িটি রাস্তার পাশে থাকা একটি খালিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠালে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে কনের ভাই, বোন এবং আরও দুইজন আত্মীয় রয়েছে। এই ভয়ংকর দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়ে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জানা গেছে, নিহত কনের পরিবারের সদস্যরা গতকাল সন্ধ্যায় পোরশা উপজেলার একটি গ্রামে অনুষ্ঠিত বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে সকালে তারা বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দুর্ঘটনাকৃত কাভার্ড ভ্যানটি যাত্রী পরিবহনের নামে অবৈধভাবে পণ্য পরিবহন করছিল এবং গাড়িটির গতি ছিল অত্যন্ত বেশি। রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকলেও চালকের অবহেলা ও দ্রুতগতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এ রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণে বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে আসছে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকসন্তপ্ত হয়ে পড়েছেন। কনের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ দুর্ঘটনায় তাদের প্রিয়জনদের হারিয়ে তারা বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনগণ এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এলাকার নেতারা জানিয়েছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে রাস্তায় স্পিড ব্রেকার স্থাপন এবং ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানোর জরুরি প্রয়োজন। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত চালককে গ্রেপ্তার করে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।
পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত কাভার্ড ভ্যানের চালক ও গাড়িটি আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাস্তায় যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ অভিযান চালানো হবে এবং দ্রুতগতির যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং রাস্তার অবস্থা উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।