রোববার সকাল নয়টার দিকে ঈশ্বরদীর কুরলিয়া এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয়দের যৌথ প্রচেষ্টায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, উদ্ধার করা মরদেহটি গত কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন জাতীয় ছাত্রদলের এক শীর্ষ নেতার। ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি ১৫ কিলোমিটার দূরে পদ্মা নদীতে ভেসে উঠেছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এই ঘটনাটি স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিখোঁজ নেতার পরিবারের সদস্যরা মরদেহ দেখে শোকসন্তপ্ত হয়ে পড়েছেন। পুলিশ দ্রুত ঘটনার আসল সত্যতা জানতে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি পাঠিয়েছে।
ঘটনার নেপথ্যে জানা গেছে, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতাটি গত কয়েক দিন আগে তার বাসাবি থেকে বেরিয়ে গিয়ে আর ফেরেননি। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও সফল হতে পারেননি। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে হারানোর অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের এক পর্যায়ে জানা যায়, নিখোঁজ নেতাটি পদ্মা নদীর তীরবর্তী এলাকায় ছিলেন। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। স্থানীয়রা ধারণা করছিলেন, তিনি হয়তো নদীতে পড়ে গেছেন বা অন্য কোনো কারণে নিখোঁজ হয়েছেন। তবে মরদেহ উদ্ধারের পর বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ আকার ধারণ করেছে।
নিখোঁজ নেতার পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, ঘটনার আসল সত্যতা জানতে দ্রুত ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পদ্মা নদীতে মরদেহ ভেসে উঠেছে বলে শোনা গিয়েছিল, কিন্তু প্রাথমিকভাবে কেউ তা নিশ্চিত করতে পারেনি। মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ চিনতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত হয়ে পড়েছেন। স্থানীয় জনগণ এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং নিহত নেতার আত্মার শান্তি কামনা করেছেন। রাজনৈতিক মহল থেকেও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশের পর ঘটনার আসল সত্যতা জানা যাবে। পুলিশ দ্রুত তদন্ত শেষ করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিততা আছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে জানা হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে পুলিশ আরও সতর্ক থাকবে বলে জানিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন যৌথভাবে এই বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দিচ্ছে।