অন্তঃসত্ত্বা অর্পিতা, ২৮ বছর বয়সী, ১২ অক্টোবরের আশেপাশে জন্মের সম্ভাব্য তারিখে, ১৬ অক্টোবরের প্রথম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর, গর্ভাবস্থার জটিলতা নিয়ে তিনি সিলেটের গোরখপুর হাসপাতালে পরিদর্শন করেন। চিকিৎসা দলের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, তিনি ১৫ অক্টোবরের রাতে মারা যান। মৃত্যুর সময় তিনি রোগীকে বলেন, ‘আর এখানে থাকব না, বাসায় নিয়ে চলো’।
অর্পিতা ছিলেন সিলেটের একটি ছোট গ্রামে জন্মগ্রহণকারী, তার পিতা-মাতা ও দুই ভাইবোনের সাথে বসবাস করতেন। তিনি ২০২২ সালে তার স্বামী রায়ানকে বিয়ে করেন এবং দুজনের প্রথম সন্তান গর্ভে ধারণ করেন। ১২ অক্টোবরের জন্মদিনের আগের দিনটি তার জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করত, কারণ সেই দিনটি ছিল তার সন্তানের সম্ভাব্য জন্মদিন। ১৬ অক্টোবরের প্রথম বিবাহবার্ষিকীও পরিবারে আনন্দের দিন ছিল।
অর্পিতার পরিবারে শোকের ঢেউ বইছে। তার স্বামী রায়ান বলেন, ‘আমরা তাকে হারিয়ে গভীর শূন্যতা অনুভব করছি। তিনি সবসময় আমাদের পরিবারের আলো ছিলেন।’ হাসপাতালের প্রধান চিকিৎসক ডাঃ হাসান বলেন, ‘গর্ভাবস্থার জটিলতা দ্রুত সনাক্ত না হলে এমন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, কিন্তু সময়মতো হস্তক্ষেপ সম্ভব হয়নি।’ প্রতিবেশীরা জানান, ‘অর্পিতার মৃত্যু আমাদের সমাজে গর্ভাবস্থার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে বলে মনে করিয়ে দেয়।’
সিলেট জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছেন। তারা গর্ভাবস্থার জটিলতা সনাক্তকরণে হাসপাতালের প্রোটোকল পর্যালোচনা করছেন এবং ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে নতুন নীতি প্রণয়নের পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া, জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গর্ভবতী নারীদের জন্য নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জরুরি সেবা উন্নত করার উদ্যোগ নিচ্ছে। এই ঘটনাটি গর্ভাবস্থার জটিলতা প্রতিরোধে জাতীয় স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।