ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় সাতৈর-ডোবরা সড়কের অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে, এটি এখন যাত্রী ও যানবাহন পরিচালনাকারীদের জন্য এক ধরনের ভয়ংকর বিপদের কারণে পরিণত হয়েছে। এই সড়কটি উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শহরের সাথে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হলেও, বর্তমানে এটি খানাখন্দে ভরা অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় সড়কের গভীর গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকায় যানবাহন চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, দিনের বেলায়ও এই সড়কে যানবাহন চলাচল করা কঠিন, তবে বৃষ্টির পরে তা সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। ফলে হাজারো মানুষ যাতায়াতে বিপুল সময়ে পিছিয়ে পড়েন এবং অনেক সময় বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার বাধ্যবাধকতা অনুভব করেন, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।
এই সড়কের অবনতির পেছনে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, কয়েক বছর আগে এই সড়কটি তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থায় ছিল, তবে ভারী যানবাহনের নিয়মিত চাপ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাবে ধীরে ধীরে এর অবস্থা খারাপ হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় সড়কের গঠনগত দুর্বলতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টি মৌসুমে পানি জমে যাওয়ায় সড়কের ভিত্তিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা পরবর্তীতে খানাখন্দ তৈরির মূল কারণ হিসেবে কাজ করে। এই অবস্থায় সড়কটি এখন আর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং যাত্রীদের জন্য একটি বড় বিপদের কারণে পরিণত হয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
সড়কের এই নাজুক অবস্থার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় জনজীবনের বিভিন্ন দিকের ওপর। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসায় বিপুল সময়ে পিছিয়ে পড়ছেন, যা তাদের পাঠ্যক্রম ও মানসিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একইভাবে, বাণিজ্যিক যানবাহনগুলোও এই সড়কে চলাচলে সমস্যায় পড়ছে, ফলে পণ্য পরিবহনের খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং স্থানীয় বাজারজাতকরণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, এই সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময়ই থাকে, বিশেষ করে রাতের বেলায় বা বৃষ্টির সময়। তারা দাবি করেছেন, কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত তারা এই বিপর্যয়ের শিকার হতে বাধ্য থাকবেন। স্থানীয় নেতারাও এই সমস্যার গুরুত্ব তুলে ধরে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সড়কটির মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রকল্পের আওতায় কাজ শুরু করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে বাজেট বরাদ্দ ও প্রকৌশলী সংকটের কারণে কাজটি দেরি হচ্ছে বলে জানা গেছে। কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, শীঘ্রই এই সড়কটি মেরামত করে যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এই প্রতিশ্রুতির ওপর সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, কারণ গত কয়েক বছর ধরে একই সমস্যা নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়নি। ভবিষ্যতে এই ধরনের অবস্থা এড়াতে কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ভারী যানবাহনের চাপ কমাতে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন প্রয়োগ করা জরুরি। স্থানীয় জনগণ আশা করছেন, কর্তৃপক্ষ এবার সত্যিই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাদের এই দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ দূর করবে এবং সড়কটি নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব করে তুলবে।