বাংলাদেশের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগে বিজ্ঞানীরা জেব্রার গায়ে সাদা–কালো ডোরা কীভাবে গঠিত হয় তা নিয়ে নতুন গবেষণা প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, ডোরা গঠনের পেছনে জিনগত ও পরিবেশগত দুইটি প্রধান কারণ কাজ করে। প্রথমত, ডিএনএ‑তে থাকা নির্দিষ্ট জিনের প্রকাশের ফলে ত্বকে রঞ্জক কোষের বণ্টন অসমান হয়। দ্বিতীয়ত, শৈশবে গৃহীত খাদ্য ও তাপমাত্রা ডোরার প্যাটার্নে প্রভাব ফেলে। গবেষণাটি দেশের প্রথমবারের মতো জেব্রার ডোরা গঠনের প্রক্রিয়া বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
এই গবেষণা শুরু হয় ২০১৮ সালে যখন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধীনস্থ ল্যাবরেটরি জেব্রার নমুনা সংগ্রহ করে। পূর্বে দেশে জেব্রা নিয়ে গবেষণা সীমিত ছিল এবং বেশিরভাগ তথ্য বিদেশি গবেষণা থেকে এসেছে। গবেষকরা জেব্রার ত্বক থেকে কোষ সংগ্রহ করে মাইক্রোস্কোপে পর্যবেক্ষণ করেন এবং জিনের প্রকাশ বিশ্লেষণ করেন। ফলাফল প্রকাশের পর বিজ্ঞানীরা জোর দেন যে, এই তথ্য দেশীয় সংরক্ষণ কর্মসূচি ও জেব্রা প্রজাতির সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গবেষণা প্রকাশের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গবেষক ড. রানা আহমেদ বলেন, ‘আমরা আশা করি এই ফলাফল দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষকদলের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।’ সরকারী প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব মি. সুলতান আহমেদও বক্তব্য দেন, ‘এই গবেষণা আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণে সহায়ক হবে।’ জনগণের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়, বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও প্রাণীপ্রেমীরা গবেষণার ফলাফলকে প্রশংসা করেছেন।
কর্মকর্তারা এখন গবেষণার ফলাফলকে জাতীয় সংরক্ষণ নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করছেন। স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জেব্রা ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণে নতুন নির্দেশিকা জারি করবে। পাশাপাশি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য তহবিল বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছে। ভবিষ্যতে গবেষকরা জেব্রার ডোরা গঠনের প্রক্রিয়া আরও গভীরভাবে অধ্যয়ন করবেন এবং জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণে প্রয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবেন।