ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে উল্লেখ করেন যে, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি, বিশেষত ‘পুলিশগিরি’ নামে পরিচিত শক্তি, আর প্রয়োজন নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহ্যিক হস্তক্ষেপ ছাড়া এই অঞ্চল স্বয়ংসম্পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তি নিশ্চিত হবে। রাইসি এই বক্তব্যের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং ইরানের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি গত কয়েক দশক ধরে কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতির কেন্দ্রে রয়েছে। শীতল যুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া ও লেবাননসহ বহু দেশে বেস স্থাপন করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি করে আসছে। তবে এই উপস্থিতি প্রায়শই স্থানীয় সংঘাতের জটিলতা বাড়িয়ে তুলেছে এবং মানবিক সংকটের কারণ হয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের পটভূমিতে ইরানের দীর্ঘমেয়াদী বিরোধী নীতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক উত্তেজনা রয়েছে, যা উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক অবিশ্বাসকে আরও তীব্র করেছে।
রাইসির বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় অপরিহার্য এবং কোনো দেশই স্বেচ্ছায় এই দায়িত্ব থেকে সরে যাবে না। তাছাড়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কের মতো আঞ্চলিক দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপকে নিরাপত্তা গ্যারান্টি হিসেবে দেখে, আবার অন্যরা ইরানের স্বতন্ত্রতা রক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করে।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চ্যানেলগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের জন্য বহু দেশ একত্রে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সংলাপের সম্ভাবনা বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের মতামত চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে, এই উন্নয়নটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তাই বিদেশ মন্ত্রণালয় যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে।