আশিকুর রহমান, বর্তমান অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি অতিরিক্ত বাজেট ছাড়া কোনো বড় প্রকল্পে কাজ করতে অস্বীকার করছেন। তার এই বক্তব্য দেশের অর্থনৈতিক নীতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত আলোচনাকে তীব্রতর করেছে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতা ও দায়বদ্ধতা বিবেচনা করে অতিরিক্ত ব্যয় স্বীকার করা দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হতে পারে। এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে মিডিয়ায় প্রচুর মন্তব্য ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে, যা সরকারের বাজেট নীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করেছে।
আশিকুরের এই অবস্থানের পেছনে দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক পরিকল্পনার অভাব ও পূর্ববর্তী বাজেট ঘাটতির ইতিহাস রয়েছে। গত পাঁচ বছরে দেশের মোট বাজেটের ৪০% থেকে বেশি অংশই ঋণসেবা ও সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছে, ফলে অবকাঠামো ও সামাজিক কল্যাণ প্রকল্পে প্রয়োজনীয় তহবিলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, রোড, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পে ধারাবাহিকভাবে বিলম্ব ঘটেছে, যা দেশের উৎপাদনশীলতা ও বিনিয়োগের পরিবেশকে প্রভাবিত করেছে। এই পটভূমিতে আশিকুরের দাবি উঠে এসেছে যে, অতিরিক্ত বাজেট ছাড়া কোনো প্রকল্পে অগ্রসর হওয়া অর্থনৈতিক ভারসাম্যকে নষ্ট করবে এবং ভবিষ্যতে আর্থিক সংকটের সম্ভাবনা বাড়াবে।
আশিকুরের বক্তব্যের পর সরকারী কর্মকর্তারা, অর্থ মন্ত্রী ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্যরা তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। অর্থ মন্ত্রী জাহিদুল হক বলেন, "বাজেটের সীমাবদ্ধতা স্বীকার্য, তবে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা যায় না।" অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদ আশিকুরের সতর্কতা প্রশংসা করে বলেন, "বাজেটের অযৌক্তিক বৃদ্ধি দেশের ঋণভার বাড়াবে, তাই তার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে যথাযথ সমন্বয় করা দরকার।" সাধারণ জনগণের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু মানুষ আশিকুরের দায়িত্বশীলতা প্রশংসা করে, আবার অন্যরা উন্নয়ন প্রকল্পের বিলম্বে বিরক্তি প্রকাশ করে।
এখন সরকারী দিক থেকে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে, যাতে বাজেটের সীমাবদ্ধতা ও উন্নয়ন চাহিদা উভয়ই সমন্বয় করা যায়। পরিকল্পনা কমিশন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে, যা বাজেটের অগ্রাধিকার নির্ধারণ, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে ঋণ শর্তাবলি পুনর্বিবেচনা করবে। পাশাপাশি, সরকারী প্রকল্পের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলকে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে বেসরকারি তহবিলের মাধ্যমে অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা যায়। ভবিষ্যতে, আশিকুরের মতামতকে বিবেচনা করে বাজেটের পুনর্গঠন ও আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য নীতি নির্ধারণে আরও কঠোর মনোযোগ দেওয়া হবে, যা দেশের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।