প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

জলাবদ্ধতা ও পানিশূন্যতার দ্বিগুণ সংকটে দেশ: জানালা ও জলের ক্ষুধা

বাংলাদেশের নদ-নদী ও খাল-বিলের জটিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জলাবদ্ধতা ও পানিশূন্যতার দ্বিগুণ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Nov 3, 2026 প্রিন্ট: 04 Nov 2026, 10:14 AM
জলাবদ্ধতা ও পানিশূন্যতার দ্বিগুণ সংকটে দেশ: জানালা ও জলের ক্ষুধা

বাংলাদেশের নদ-নদী ও খাল-বিলের জটিল জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে জলাবদ্ধতা ও পানিশূন্যতার দ্বিগুণ সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে উত্তর ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলায় দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির অভাবে কৃষি ক্ষেত্রে তীব্র সংকট দেখা দেওয়ায় ফসলের ক্ষতি সাংঘাতিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে ঘরবাড়ি, সড়ক ও কৃষিজমি জলমগ্ন হয়ে পড়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনকে বিপর্যস্ত করেছে। এই দ্বিধার মুখোমুখি হওয়ায় জনগণ এখন জানালার বাইরের প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন, যেখানে একদিকে জলের অতিরিক্ত প্রবাহ আর অন্যদিকে জলের অভাবের তীব্র ক্ষুধা একই সময়ে উপস্থিত রয়েছে।

এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং নদী প্রবাহের স্বাভাবিক রুট পরিবর্তনকে দায়ী করছেন। গত কয়েক দশকে দেশের নদী ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে, যা প্রাকৃতিক জলসম্পদকে সুষম রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ জলের স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ায় কৃষকরা পানি সংগ্রহে অসহনীয় কষ্ট পড়ছেন। একই সাথে দক্ষিণে বর্ষা মৌসুমের আগেই শুরু হওয়া অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানি স্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি জলাবদ্ধতার মূল কারণ। এই পটভূমিতে দেশের জলবায়ু নীতিমালা এবং নদী সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

সংশ্লিষ্ট কৃষক, স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞদের বক্তব্যে এই সংকটের গভীরতা প্রতিফলিত হয়েছে। উত্তরের কৃষকরা জানান, পানির অভাবে ধান ও অন্যান্য ফসলের বীজ বপন বিলম্বিত হয়েছে, যা ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। দক্ষিণের বাসিন্দারা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জনজীবনে এর প্রভাব শুধু কৃষি সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতিসহ সকল খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। স্থানীয় জনগণ কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তাদের জীবনযাপন স্বাভাবিক হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এমন সংকট এড়াতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কর্তৃপক্ষ এই সংকট মোকাবিলায় বর্তমানে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। জলাবদ্ধ এলাকায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় স্থানে ত্রাণ তৎপরতা শুরু করা হয়েছে। অন্যদিকে, পানিশূন্য এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেমন পানির ট্যাংকার পাঠানো এবং বোরোহোল খোঁজার কাজ ত্বরান্বিত করা। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে সরকার জলবায়ু অভিযোজন নীতিমালা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে নদী ব্যবস্থাপনা, বনায়ন এবং জলসম্পদ সংরক্ষণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, স্থানীয় সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জলবায়ু অভিযোজন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা জরুরি, যাতে দেশের জনগণ জলের ক্ষুধা ও জলাবদ্ধতার দ্বিগুণ সংকট থেকে মুক্তি পেতে পারে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.