প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

গাজীপুর ও সাভারের পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে ৮০‑এরও বেশি কারখানায় বন্ধের ঘোষণা

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের মাঝখানে এক পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে এবং আরেকটি পিক‑আপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে কয়েকজন
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Nov 1, 2026 প্রিন্ট: 01 Nov 2026, 10:06 PM
গাজীপুর ও সাভারের পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভে ৮০‑এরও বেশি কারখানায় বন্ধের ঘোষণা

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভের মাঝখানে এক পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে এবং আরেকটি পিক‑আপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে কয়েকজন কর্মী আহত হলেও কোনো প্রাণহানি হয়নি। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকরা দাবি করে যে বেতন, ওভারটাইম এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অবহেলা তাদেরকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে দিয়েছে। গাজীপুর ও সাভার জুড়ে মোট ৮০টিরও বেশি পোশাক কারখানা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় অস্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে, যা দেশের পোশাক শিল্পের উৎপাদনশীলতাকে সাময়িকভাবে প্রভাবিত করবে।

পোশাক শিল্প বাংলাদেশে রপ্তানি আয়ের প্রধান চালিকাশক্তি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ, বেতন এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে অসন্তোষ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছরই একই রকম বিক্ষোভে শ্রমিকরা ন্যূনতম মজুরির বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত কাজের ঘন্টা সীমাবদ্ধ করার দাবি তুলে ধরেছিল। সরকার ও শিল্প সংস্থার মধ্যে বহুবার আলোচনার পরেও বাস্তবায়ন ধীরগতিতে এগোচ্ছে, ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অবিশ্বাসের বীজ বপন হয়েছে। এই বিক্ষোভের পটভূমি হিসেবে শ্রমিকদের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি না থাকা, নিরাপত্তা মানদণ্ডের ঘাটতি এবং বেতনবিহীন অতিরিক্ত কাজের অভিযোগ উল্লেখযোগ্য।

বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী শ্রমিকদের প্রতিনিধি বলছেন, “আমাদের মৌলিক অধিকার রক্ষা না করা হলে আমরা আর কোনো বিকল্প দেখতে পাচ্ছি না।” অন্যদিকে, কিছু কারখানার মালিক অভিযোগ করছেন যে অগ্নিসংযোগের ঘটনা শ্রমিকদের অনধিকারিক কাজের ফল, যা উৎপাদন বন্ধের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারী কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তা প্রদান করেছেন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। সাধারণ জনগণও এই ঘটনার প্রতি সংবেদনশীল, কারণ পোশাক শিল্পে কর্মসংস্থান দেশের বৃহৎ অংশ গঠন করে, এবং উৎপাদন বন্ধের ফলে জীবিকায় প্রভাব পড়তে পারে।

অধিকারের দিক থেকে, শ্রম মন্ত্রণালয় জরুরি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এবং অগ্নিসংযোগের দায়ী ব্যক্তিদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, শ্রমিক ও মালিকদের মধ্যে সমঝোতা চক্র গড়ে তোলার জন্য ত্রৈমাসিক বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকার শ্রমিকদের বেতন ও কাজের পরিবেশ উন্নয়নের জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন বিক্ষোভের পুনরাবৃত্তি রোধ করা যায়। এই পদক্ষেপগুলো শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সুনাম রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.