প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস পর্যন্ত

বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিপ্লবী এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে বিনার (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার অ্যাজ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং) আধুনিক গামা রশ্মি
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 31, 2026 প্রিন্ট: 02 Nov 2026, 07:13 AM
বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস পর্যন্ত

বাংলাদেশের কৃষি খাতে বিপ্লবী এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা ঘটেছে বিনার (বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার অ্যাজ্রিকালচার অ্যান্ড ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং) আধুনিক গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্রের উদ্বোধনের মাধ্যমে। এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ১২ মাস পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। মহাপরিচালকের তথ্যমতে, এই কেন্দ্র প্রতিবছর ৫৬ হাজার ৫০০ টন পণ্যের সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে। এর ফলে দেশে কমপক্ষে ৫৩ কোটি ৭০ লাখ টাকার সাশ্রয় হবে, যা সরাসরি কৃষক ও বাণিজ্যিক খাতের আয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখবে।

বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে পরিচালিত দেশ, যেখানে ফসল হারানোর হার কমানো সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ঐতিহ্যবাহী সংরক্ষণ পদ্ধতিতে রাসায়নিক পদার্থের ব্যবহার বা অপর্যাপ্ত ঠান্ডা সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে প্রতি বছর বিশাল পরিমাণে শস্য নষ্ট হতো। এই নতুন গামা রশ্মি বিকিরণ প্রযুক্তি সেই পুরনো সমস্যার কার্যকর সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রযুক্তি পণ্যের পুষ্টিগুণ হ্রাস না করেই এর মধ্যে থাকা পোকা-পোকামাকড় ও ব্যাকটেরিয়া নিষ্ক্রিয় করে দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের সুযোগ করে দেয়। ফলে কৃষকরা আরও নিরাপদে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিতে পারবেন এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও দেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে।

সংশ্লিষ্ট কৃষি বিশেষজ্ঞরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, সংরক্ষণকাল বাড়লে বাজারজাতকরণের সময়সীমা বাড়বে, যা কৃষকের হাতে বেশি সময় দেবে এবং পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে। জনজীবনে এর প্রভাব হিসেবে খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে আম, পেঁয়াজ, রসুন এবং অন্যান্য নরম ফসলগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির চাহিদা অত্যন্ত বেশি। কৃষকরা এখন আর ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য থাকবেন না, বরং সঠিক সময়ে সঠিক দামে পণ্য বিক্রি করার সুযোগ পাবেন, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি সাধনে সহায়ক হবে।

কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছেন যে, এই কেন্দ্রের কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক হবে এবং তা দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করা হবে। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির আওতা আরও সম্প্রসারিত করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোট ও মাঝারি আকারের বিকিরণ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কৃষকদের এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন করার জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের কৃষি খাতকে আরও আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলা এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই উদ্যোগটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.