প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত‑ই‑ইসলাম ও কওমিপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র বিরোধের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। দু’টি গোষ্ঠীর সমর্থকরা একে অপরের সমাবেশে হস্তক্ষ
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 31, 2026 প্রিন্ট: 01 Nov 2026, 05:05 PM
জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু

গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত‑ই‑ইসলাম ও কওমিপন্থী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র বিরোধের দৃশ্য দেখা গিয়েছে। দু’টি গোষ্ঠীর সমর্থকরা একে অপরের সমাবেশে হস্তক্ষেপ করে ধাক্কা মারার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য করা হয়েছে। এই সংঘাতের তীব্রতা দেশের ইসলামি রাজনীতির সংবেদনশীলতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ বৃদ্ধি করেছে। বিশেষত, নির্বাচনী মৌসুমের নিকটবর্তী সময়ে এ ধরনের উত্তেজনা রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থির করে তুলতে পারে, যা জাতীয় নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির জন্য হুমকি স্বরূপ।

জামায়াত‑ই‑ইসলাম ও কওমিপন্থীদের সম্পর্কের শিকড় ১৯৭১ের মুক্তিযুদ্ধের পরের রাজনৈতিক গঠনে রয়েছে। ১৯৭২ সালে জামায়াত‑ই‑ইসলাম গঠন হয়, যা ধর্মীয় নীতি ও সামাজিক সংস্কারের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ভূমিকা নিতে চায়। একই সময়ে কওমিপন্থী গোষ্ঠী, যা মূলত কওমি আন্দোলনের ধারাবাহিকতা, ধর্মীয় ও সামাজিক সংস্কারের জন্য আলাদা পথ অনুসরণ করে। ১৯৮০‑এর দশকে দু’গোষ্ঠীর মধ্যে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও মতবিরোধের সূচনা হয়, বিশেষত ধর্মীয় শিক্ষা ও শাসনব্যবস্থার প্রশ্নে। অতঃপর ১৯৯০‑এর দশকে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, যখন উভয় গোষ্ঠীর নেতা একে অপরের রাজনৈতিক পরিকল্পনা ও সমর্থনকে হুমকি হিসেবে দেখেন।

এই সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত‑ই‑ইসলামের মহাসচিব শফিকুল হক রশিদ এবং কওমি গোষ্ঠীর নেতা মুআউয়িয়া হক আলী উভয়েই জনসমক্ষে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেন। রশিদ বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য ধর্মীয় ন্যায়বিচার রক্ষা করা এবং কোনো গোষ্ঠীর হস্তক্ষেপকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে গণ্য করা। অন্যদিকে আলী বলেন, কওমি গোষ্ঠী ধর্মীয় ঐক্যের জন্য কাজ করছে এবং জামায়াতের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপকে ধর্মীয় ঐক্যের ক্ষতি হিসেবে দেখেন। সাধারণ জনগণ এই বিবাদে বিভক্ত হয়ে পড়েছে; কিছু মানুষ জামায়াতকে সমর্থন করে, আবার অন্যরা কওমি গোষ্ঠীর নীতি পছন্দ করে। ফলে ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং সামাজিক মেলামেশা কমে গেছে।

অধিকাংশ নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা সত্ত্বেও, সরকার এই বিরোধের সমাধানে ত্বরান্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভ্যন্তরীণ বিষয় মন্ত্রণালয় ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা একত্রে একটি মধ্যস্থতা কমিটি গঠন করে, যাতে উভয় গোষ্ঠীর নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ সমাধান বের করা যায়। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে ধর্মীয় সমাবেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করে, হিংসা রোধে কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। ভবিষ্যতে, উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা ও সংলাপের মাধ্যমে ধর্মীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং রাজনৈতিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করা সম্ভব হবে বলে সরকার আশাবাদী।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.