প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
Ekushey Television
Ekushey Television
Ekushey Television QR Code
জাতীয়

এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন

বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। সর্বোচ্চ এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকা
প্রতিবেদক: EKUSHEY TELEVISION LTD. প্রকাশ: Oct 31, 2026 প্রিন্ট: 01 Nov 2026, 01:17 PM
এইচএসসিতে এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্যরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেবেন

বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবারের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর একটি নতুন ব্যবস্থা চালু করেছে। সর্বোচ্চ এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া পরীক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে কেবল অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলির পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। এই সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত অগ্রগতি ত্বরান্বিত করা এবং পুনরায় পরীক্ষার সময়সীমা কমিয়ে শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীরা এই নীতির তাত্ক্ষণিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা উভয়ই প্রকাশ করেছে।

প্রথাগতভাবে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা ফলাফলের ঘোষণার পর ছয় মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার জন্য আবেদন করতে হতো, যা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত ধারাবাহিকতা ব্যাহত করত এবং উচ্চশিক্ষা বা কর্মসংস্থানের পরিকল্পনায় বিলম্ব ঘটাত। গত বছর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর গৃহীত সমীক্ষা থেকে জানা যায় যে, একাধিকবার পুনরায় পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করার ফলে শিক্ষার্থীর মানসিক চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং dropout হারও বেড়েছে। এসব সমস্যার সমাধানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় পরীক্ষাকেন্দ্র (এনসিই) একত্রে বিশদ পর্যালোচনা করে এই এক-মাসের পুনরায় পরীক্ষার নীতি প্রণয়ন করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জয়ন্ত দে এই নীতির পেছনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলেন, “অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের দ্রুত পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ প্রদান করা তাদের শিক্ষাগত পুনরুদ্ধারকে ত্বরান্বিত করবে এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে সহায়তা করবে।” এদিকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি সমিতি সভাপতি রুবেল হক জানান, “এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়া আমাদের জন্য সময়সীমা সংকুচিত হলেও, এটি আমাদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।” কিছু শিক্ষাবিদ ও পিতামাতার মধ্যে এই নীতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে; তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে সংক্ষিপ্ত সময়সীমা প্রস্তুতির মান হ্রাস করতে পারে এবং পরীক্ষার গুণগত মান বজায় রাখতে অতিরিক্ত তদারকি প্রয়োজন হবে। তবে অধিকাংশ স্কুল ও কলেজের প্রধান শিক্ষকরা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “এই ব্যবস্থা শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করবে।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী সপ্তাহে সকল সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই নীতির কার্যকরী নির্দেশিকা প্রেরণ করবে এবং জাতীয় পরীক্ষাকেন্দ্রের মাধ্যমে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালু করবে। পুনরায় পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশ্নপত্র ও মূল্যায়ন মানদণ্ড পূর্বে নির্ধারিত হবে, এবং ফলাফল দ্রুতই প্রকাশ করা হবে যাতে শিক্ষার্থীরা সময়মতো উচ্চশিক্ষা বা পেশাগত প্রশিক্ষণে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি, মন্ত্রণালয় পুনরায় পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পরামর্শদাতা সেবা ও টিউটরিং প্রোগ্রাম চালু করার পরিকল্পনা করেছে। ভবিষ্যতে এই নীতি অন্যান্য স্তরের পরীক্ষায়ও সম্প্রসারিত করা হতে পারে, যা দেশের শিক্ষাব্যবস্থার নমনীয়তা ও প্রতিযোগিতামূলকতা বাড়াবে।

© 2026 ekusheytelevision. All rights reserved.